আফগানিস্তান তালেবানের যুদ্ধের ঘটনা। আফগানিস্তানের যুদ্ধ ।তালেবানের দখল করে নেওয়া শহরগুলো যেভাবে চলছে।

আফগানিস্তান তালেবানের যুদ্ধের ঘটনাgতালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর অনেক মরিয়া আফগানের দেশ ত্যাগের চেষ্টায় কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সেখানে গোলাগুলি হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। বিমানে ওঠার চেষ্টায় ছোটাছুটি করার সময় এক পর্যায়ে পদদলিত হয়ে অনেকে আহত হয় বলেও খবর পাওয়া গেছে।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও তালেবানের ক্ষমতা দখল আফগানিস্তানে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে এবং ওয়াশিংটনের হিসাবনিকাষে যে ভ্রান্তি, সেটাই স্পষ্ট করেছে ।

পূর্বসূরীদের কাছ থেকে আফগান সংকট সমাধানের ভালো কোনো পথ পাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন৷ ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার আগে শেষ সিদ্ধান্তগুলোর একটি হিসাবে আফগানিস্তান থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন৷ ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যুর পর এই আক্রমণ যৌক্তিকতা হারিয়েছে, এমন অকাট্য যুক্তি থাকলেও সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিতে পারেননি তার পূর্বসূরী বারাক ওবামাও৷

এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য দেশে ব্যাপক চাপের মুখে ছিলেন জো বাইডেন৷ বেশিরভাগ অ্যামেরিকান এমন একটি দেশের জন্য জীবনের ঝুঁকি বা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করতে চায় না, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মুক্তিদাতার বদলে দখলদার হিসেবে দেখা হয়৷

বাইডেনের একটি সাফল্য প্রয়োজন ছিল৷ অনেক মার্কিন প্রেসিডেন্টই নির্বাচনে জেতার জন্য যুদ্ধ শুরু করেছেন৷ কিন্তু এই প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসের দুই কক্ষে এবং আগামি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের দুর্বল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে একটি যুদ্ধ শেষ করার দরকার ছিল৷

‘‘আফগানিস্তানে তালেবানের আগমনে দু’টি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে৷ একটি জঙ্গি বিস্তার, আরেকটি হল মার্কিন সৈন্য প্রত্যহারের পর সেখানে যে নিরাপত্তাশূন্যতা তৈরি হয়েছে, এখন আঞ্চলিক শক্তিগুলো সেখানে আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে৷ ফলে আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে৷ যেহেতু বাংলাদেশ এই অঞ্চলের একটি দেশ, ফলে তারা কমবেশি দু’টি ঝুঁকিতেই পড়তে পারে,” সংবাদ মাধ্যমে বলেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ৷

তবে সাবেক কূটনীতিকরা বলছেন, এই মুহুর্তে বাংলাদেশের শঙ্কার তেমন কোনো কারণ নেই, কারণ ২০ বছর আগের বাংলাদেশ আর এই বাংলাদেশ এক নয়৷ আবার ২০ বছর আগের তালেবান আর এখনকার তালেবানের মধ্যেও পার্থক্য আছে৷ তবে তারা বলছেন, বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে হবে৷ যে কোনো দেশ জঙ্গি নিয়ে যেভাবে সজাগ থাকে, বাংলাদেশেও সেটুকু থাকতে হবে৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘‘২০ বছর আগের বাংলাদেশ আর এই বাংলাদেশ এক নয়৷ যে কোনো জঙ্গিবাদ যখন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, তখন রাষ্ট্রের বা কোনো গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতা থাকে৷ এখন যারা বাংলাদেশে ক্ষমতায় আছে, তারা তো হোলি আর্টিজানের ঘটনার পর জিরো টলারেন্সে গেছে৷

জঙ্গিবাদ থামানোর জন্য একাধিক স্ট্রাকচার তৈরি করেছে৷ একজন দুই জন বিচ্ছিন্নভাবে আগ্রহ দেখাতে পারে, কিন্তু বিস্তারের জন্য রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতা দরকার৷ এখানে সেটা তো নেই৷ আর এখনকার তালেবানের মধ্যেও একটা পার্থক্য আছে৷ তখন তো সৌদিআরব আর পাকিস্তান তালেবানের বন্ধু আর শক্তি ছিল৷ তার সঙ্গে অ্যামেরিকা ছিল৷ এটাও মনে রাখতে হবে৷ এখনকার তালেবান কাতারে বসে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নেগোসিয়েশন করছে৷”

অধ্যাপক আহমেদের সঙ্গে সহমত পোষণ করে সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘‘আফগানিস্তানে তালেবানের নতুন করে উত্থানে বাংলাদেশের শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই৷ তবে সতর্ক থাকতে হবে৷ এবারের যে তালেবান, তাদের চেহারা ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সালের মতো উগ্রবাদী এবং পুরোপুরি সামরিক নয়৷ বরং তাদের বর্তমান চেহারায় একটি নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক পরিচয় দেখা যাচ্ছে৷

ফলে এবার তালেবানের দেশ পরিচালনায় আগের চেহারা দেখা যাবে না, সেটা ধারণা করা যায়৷ তালেবান ধীরে ধীরে বর্তমান বিশ্বের সমসাময়িক বাস্তবতায় একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান সংহত করার উদ্যোগ নেবে, সে ধারণাও করা যায়৷ তবে বাংলাদেশকে অবশ্যই পরিস্থিতি গভীর পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে এবং সতর্ক থাকতে হবে৷”

তবে ২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলনে আমি তরুণদের মধ্যে যে স্বতস্ফূর্ততা দেখেছি, সেটা থেকে আমার মনে একটা বিরাট আশা তৈরি করেছে৷ আমাদের তরুণরা প্রয়োজন হলে মাঠেও নামবে এবং বড় ভুমিকা রাখবে৷ ওরা যতদিন আছে, ততদিন বাংলাদেশে তালেবানের মতো কিছু আসতে দেবে না৷”

সাবেক কূটনীতিক মোহাম্মদ জমির মনে করেন, ‘‘এখন আমাদের দেখতে হবে বড় বড় শক্তিগুলো কী অবস্থান নিচ্ছে৷ আফগানিস্তান ঘিরে তাদের পরিকল্পনা কী?” বাংলাদেশে আপাতত কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা আছে বলে মনে করেন না এই কূটনীতিক ।

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের এখন ধৈর্য্য ধরে পর্যবেক্ষণ করতে হবে৷ আমাদের মনে রাখতে হবে, তারা সার্কের সদস্য৷ তারা ওআইসিরও সদস্য৷ ফলে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে৷ আমরা চাই না এর কোনো ছায়া বাংলাদেশে পড়ুক৷”

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘‘আমরা তৃতীয় কোনো দেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আফগানিস্তানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাই না৷ আঞ্চলিক সমৃদ্ধির জন্য আমরা চাই আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক৷ আফগানিস্তানের মানুষের অনেক সক্ষমতা আছে৷

তারা সেটি ব্যবহার করে বিশ্বে মাথা উচুঁ করে দাঁড়াক৷ সে বিষয়ে বাংলাদেশ সার্বিক সহযোগিতা করবে৷ আমরা সে জন্য প্রস্তুত আছি, তবে সে জন্য স্থায়ী সরকারের প্রয়োজন৷ সামনের দিনে যখন আমরা বুঝবো একটি স্থায়ী সরকার এসেছে, আমরা তখন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবো৷”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড . এ কে আব্দুল মােমেন বলেন ১১ লাখ রােহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার পর বাংলাদেশে আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার মতাে পরিস্থিতি নেই । তিনি আজ মঙ্গলবার ( ১৭ আগস্ট ) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের মুখােমুখি হয়ে এ কথা বলেন ।

রোহিঙ্গার পর আফগান শরনার্থী আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মােমেন বলেন , ‘ আফগানিস্তানে জনগণের সরকার হলে আমরা, তাদের সঙ্গে থাকব। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আমরা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি । সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন , যুক্তরাষ্ট্র আমাদের অনুরােধ করেছে , কিছু আফগানকে সাময়িকভাবে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ।

তবে , আমরা তাদের বলেছি , আশ্রয় দিতে পারলে আমরাও খুশি হতাম , কারণ আমরা ইতােমধ্যেই ১১ লাখ রােহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি । আমাদের আর কোনাে শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার মতাে পরিস্থিতি নেই । ‘ বিদেশের মিশনগুলােতে পাসপাের্ট জট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন , পাসপাের্ট সরবরাহ করে পাসপাের্ট অধিদপ্তর । তবে প্রিন্ট করতে না পারার জন্য এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে । এখন আবার প্রিন্টিং শুরু হয়েছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.