ঈদ-উল-আযহা । ঈদ-উল-আযহা কত তারিখে হবে?

ঈদ হবেঃ-

২১-০৭-২০২১ রোজঃ বুধবার ।

ঈদ মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় উৎসব মুখর দিন।এটি ব্যাপক উৎসাহের মধ্যে পালিত হয়। বছরে দুটি আমরা পালন করে থাকি। মুসলমানদের জন্য এই দুটি অনেক তাৎপর্যপূর্ণ। এটি আমাদের জন্য শিক্ষা নিয়ে আসে। এই দিনটি মূল লক্ষ্য হলো মসলমানরা সব ভেদাভেদ ভুলে মানবজাতিকে ছাতার নিচে নিয়ে আসা। ঈদ মানে খুশি ,ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে দূর করে এটি শিক্ষা দেয় যে আল্লাহর কাছে সবাই সমান। এটি শিক্ষা দেয় যে আমাদের একে অপরকে ভালোবাসা উচিত।হিংসা বিভেদ ভুলে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াই মূল উদ্দেশ্য।

Screenshot_1

এ দিন থেকে আমরা শিক্ষা পেয়ে থাকে যে, আমরা সকলেই ভাই-ভাই এবং একে অপরের ক্ষমা করা উচিত। এটি শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে আমাদের শিক্ষা দেয়। এই দিনটি নতুন করে কোন পাপ না করতে প্রতিজ্ঞা করে মুসলমানরা ।এটি মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে উৎসবমুখর দিন। আমরা আর্থিকভাবে আনন্দিত হই ঈদের দিনে।

সবাই নতুন পোষাক পরিধান করে। মুসলমানরা আতর সুরমা ব্যবহার করে। শিশুরা খুব খুশি থাকে। ঈদের দিন হাসি খুশিতে কাটে। মুসলমানরা শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করে। আমরা একে অপরের সাথে আন্দোলিত। আমরা একে অপরের নিয়ন্ত্রণ করি। এটি আমাদের সাথে আনন্দের সাথে আনন্দ ভাগ করতে শিক্ষা দেয়। এই দিনে আমরা কোরবানির গোশত 3 ভাগ করে একভাগ নিজের জন্য রাখি ।

১ ভাগ গরীব-দুঃখীদের জন্য আরেকবার আত্মীয়-স্বজনের জন্য রাখি।এই দিনে আমরা আমাদের আত্নীয়র সাথে দেখা করি। ঈদে মেলা থাকে শিশুদের খেলনা কিনে অনেক মজা করে। আমরা বলতে পারি যে দিনটি অনেক বড় ধর্মীয় মূল্য রয়েছে। ঈদের শিক্ষা আমাদের অনুসরণ করা উচিত।

আমাদের দেশে প্রতিবছর দুটি করে ঈদ আসেঃ-

  1. ঈদ-উল-ফিতর।
  2. ঈদ-উল-আযহা।

ঈদ-উল-ফিতর বা রোজার ঈদঃ-

ঈদ-উল-ফিতর বা রোজার ঈদ। আমরা প্রতি বছর রমজান মাসে সবাই রোজা রাখি আল্লাহ তাআলার খুশি করার জন্য । রোজা আমাদের প্রত্যেকমুসলমানদের জন্য ফরজ কাজ। আমরা প্রতি বছর ১ মাস ধরে রোজা রাখি। আমরা সকলেই সুবাহি সাদিক বা চিহিরীর সময় আমরা সকলেই রোজা রাখার জন্য ঘুম থেকে উঠি। আমরা ভাত খাই।

তারপর সারাদিন অনাহারের থাকার পর সূর্য অস্তের সময় আমরা ইফতার করি। আমরা যে সারাদিন রোজা রাখলাম সে রোজা রাখার মজাটাই আলাদা। তারপর আমরা ৩০ দিন পর সারাদিন রোজা রাখলাম। তারপর একমাস পর যখন আমরা ঈদের নামাজ পড়ার পর বাসায় গিয়ে কিছু খাবো মনে হবে যে আমি এখন রোজা আছি।

যখন ২৯ দিন শেষ হয় তখন আমরা মাগরিবের নামাজের পর, আকাশে চাঁদ দেখার জন্য আমরা খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি।
চাদ
আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকার পর আমরা যখন চাঁদ দেখতে পাবো, তখন আমরা চাঁদ কে সালাম জানাই। চাঁদ মামা আসসালামুয়ালাইকুম সেই দিন আমাদের মনে একটা ধারণা জেগে যায় যে, কখন সকাল হয়, কখন সকাল হয় মধ্যরাতে যখন আমরা একটু জায়গা পাই তখন আমরা বলি সকাল হতে আর কতক্ষন সময় বাকি আছে। তারপর যখন সকাল হয়ে যায় আমরা ফজরের নামাজের শেষে একটু হাঁটাহাঁটি ব্যায়াম করি।

তারপর আমরা গোসল করে সেমাই মুড়ি বা মিষ্টি জাতীয় নাস্তা খেয়ে ঈদগা মাঠে আমরা রওনা দেই। মুসলমানদের সাথে কলাকলি করি।

তারপর বাসায় এসে আমরা মাংস ভাত খাই। কেউ কেউ ঘুরতে যায়।তো রোজার ঈদের মজাটাই আলাদা এটা হচ্ছে ঈদ-উল-ফিতর।
ঈদের ছুটিতে ব্যস্ত শহর ঢাকা এখন ফাঁকা। কোটি মানুষ নাড়ির টানে গ্রামে ফিরলেও ঢাকায় ঈদ করছেন এমন মানুষের সংখ্যাও অনেক। অনেকে নিজেদের বাড়ি ঢাকায় হওয়ার কারণে আবার অনেকে বিভিন্ন কারণে গ্রামে যেতে না পারায় ঢাকায় ঈদ করছেন। ফাঁকা ঢাকাতে ঈদের দিনে বেড়াতে যেতে পারেন ঢাকার বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে।

ঈদের দিনে দর্শনীয় স্থানঃ-

  1. চিড়িয়াখানা
  2. ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক
  3. আহসান মঞ্জিল
  4. বুড়িগঙ্গা ইকোপার্ক
  5. লালবাগ কেল্লা
  6. হাতিরঝিল
  7. শিশুমেলা
  8. স্বাধীনতা জাদুঘর ও জাতীয় জাদুঘর
  9. তিস্তা ব্যারেজ
  10. স্বপ্নপুরী
  11. ময়নামতি
  12. পাহাড়পুর
  13. ভিন্নজগৎ

    এছাড়া আরো অনেক জায়গাতে আপনার ঘুরতে পারেন ঈদের দিনঈদে দিন কি খাবঃ-
    সাধারণত ঈদের নামাজ যাওয়ার আগে বিশ্বনবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু সাল্লাম, মিষ্টি জাতীয় জিনিস খেতেন। যেমনঃ- মিষ্টি, খেজুর বা সেমাই মুড়ি এসব খেতেন। মিষ্টি জাতীয় জিনিস খাওয়া ঈদের দিন সুন্নত।

মজার বিষয় হচ্ছেঃ-

সবচেয়ে বেশি মজার বিষয় হচ্ছে যে, ঈদের দিন গরিব-ধনী সকলেই নতুন কাপড় পরিধান করে। এবং গরীব ধনী মাংস ভাত খেতে থাকে।

এরপর আসলো ঈদু-উল-আযহা বা কোরবানির ঈদ।

ঈদু-উল-আযহা বা কোরবানির ঈদঃ-

ঈদ-উল-আযহা হচ্ছে, যে ঈদে আমরা গরু করবানি দেই সেই ঈদকে বলা হয় ঈদ-উল-আযহা অর্থাৎ কুরবানীর নামে পরিচিত।
সাধারণত এই কুরবানীর ঈদ রমজানের এর থেকে ২ ১৫ দিন পর হয়। কিন্তু কেউ আবার বড় ঈদ বলে থাকেন। সব থেকে বেশি গরু জবাই করা হয় তাই সকলে বড়ই হিসেবে পরিচিত । রোজার ঈদ থেকে কোরবানির ঈদ একটু ভিন্ন ।কারণ কুরবানীর ঈদে ধনী মানুষরা গরু জবো করে। এটি মাংস বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষের ঘরে ঘরে থাকে। তারা আনন্দের সহিত মাংস ভাত খেয়ে থাকে।

মজার বিষয় হচ্ছেঃ-

সবচেয়ে বেশি মজার বিষয় হচ্ছে যে, ঈদের দিন গরিব-ধনী সকলেই নতুন কাপড় পরিধান করে। এবং গরীব ধনী মাংস ভাত খেতে থাকে।
এই ঈদে যদি সকলেই মাংস ভাত নিয়ে ব্যাস্ত থাকে, তবুও কিছু কিছু মানুষ আছে তারা ঈদে ঘুরতে যাবে। যারা ঘুরতে যাবে তাদের জন্য কিছু আকর্ষণীয় দর্শন স্থান।

ঈদের দিনে দর্শনীয় স্থানঃ-

  1. কক্সবাজার
  2. সেন্টমার্টিন
  3. রাঙামাটি
  4. খাগড়াছড়ি
  5. দীঘিনালা বিহার
  6. সিলেট
  7. মহাস্থানগড়
  8. নীলগিরি
  9. শুভলং ঝরনা
  10. রাজবন বিহার
  11. স্বর্ণমন্দির
  12. কান্তজির মন্দির
  13. মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
  14. ছেড়াদ্বীপ
  15. কুয়াকাটা
  16. বিরিশিরি
  17. মনপুরা
  18. আমিয়াখুম ঝরনা

তো বন্ধুরা, আজকে এ পর্যন্তই। সকলে ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, আর আমার এই পোস্টটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.