ডায়াবেটিস কি? ডায়াবেটিস কমানোর সহজ উপায়? কেমন করে বুঝব আমার ডায়াবেটিস হয়েছে?

আমরােআজকে যে সব বিষয়ে জানতে পারবঃ-

  • ডায়াবেটিস রোগটি কোন ব্যাক্তিদের ক্ষেত্রে বেশী দেখা যায়?
  • যে সব লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে পারবেন আপনি ডায়বেটিস রোগী
  • ডায়াবেটিস কমানোর সহজ উপায়

ডায়াবেটিস রোগটি কোন ব্যাক্তিদের ক্ষেত্রে বেশী দেখা যায়?

  • সাধারণত মধ্যবয়সী বা বৃদ্ধ ব্যক্তিরা টাইপ টু ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। বয়স কম হওয়া সত্ত্বেও যাদের ওজন বেশি এবং যাদেরকে বেশিরভাগ সময় বসে বসে কাজ করতে হয় তাদেরও এই ধরনের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • বিশেষ কিছু এলাকার লোকেরাও এই ডায়াবেটিসের ঝুঁকিতে আছে। তার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া।
  • সন্তানসম্ভবা হলে পরেও অনেক নারীর ডায়াবেটিস হতে পারে। তাদের দেহ থেকে যখন নিজের এবং সন্তানের জন্যে প্রয়োজনীয় ইনসুলিন যথেষ্ট পরিমানে তৈরি হতে না পারে, তখনই তাদের ডায়াবেটিস হতে পারে।
  • এক গবেষণায় দেখা গেছে ৬ থেকে ১৬ শতাংশ গর্ভবতী নারীর ডায়াবেটিস হতে পারে। ডায়েট, শরীর চর্চ্চা অথবা ইনসুলিন নেওয়ার মাধ্যমে তাদের শরীরে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা গেলে তাদের টাইপ টু ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

যে সব লক্ষণ দেখা দিলে বুঝতে পারবেন আপনি ডায়বেটিস রোগীঃ-

  • শরীরে দূর্বলতা অনুভব করা।
  • শরীরের ক্ষত স্থান দীর্ঘদিন থাকা সত্বেও নিরাময় না হাওয়া অর্থাৎ ক্ষতস্থান পুরন না হাওয়া।
  • চামড়া শুকিয়ে যাওয়া,খসখসে হাওয়া,চুলকানি বৃদ্ধি পাওয়া।
  • চোখে কম দেখা।
  • ক্ষুদা বৃদ্ধি পাওয়া।
  • ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া না হলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে হাইপো হয়।
  • অহেতুক ওজন বৃদ্ধি পাওয়া।
  • ঘন ঘন প্রসাব অনুভূত হাওয়া।
  • মিষ্টি দ্রব্যাদির ওপর আকৃষ্ট হাওয়া।
  • বিরক্তিকর অনুভব করা এবং মেজাজ খিটখিটে হাওয়া।

ডায়াবেটিসের কারণে যে ধরনের জটিলতা দেখা দিতে পারে তা নিচে বনর্ণা করা হল-

  • রক্তে চিনির পরিমাণ বেশি হলে রক্তনালীর মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
  • শরীরে যদি রক্ত ঠিক মতো প্রবাহিত হতে না পারে, যেসব জায়গায় রক্তের প্রয়োজন সেখানে যদি এই রক্ত পৌঁছাতে না পারে, তখন স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • এর ফলে মানুষ দৃষ্টি শক্তি হারাতে পারে। ইনফেকশন হতে পারে পায়ে।
  • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, অন্ধত্ব, কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ইত্যাদির পেছনে একটি বড় কারণ ডায়াবেটিস।

ডায়াবেটিস কমানোর সহজ উপায়ডায়াবেটিস কমানোর সহজ উপায়

এখন আপনাদের সামনে আলোচনা করবো কোন কোন বিষয় বা দিকনির্দেশনা অবলম্বন করলে ডায়াবেটিস রোগটি সহজেই কমাতে পারবেন। তাহলে চলুন যেনে নেওয়া যাকঃ-

১। আমের পাতা

আমের পাতা আপনাকে দেহে ডায়াবেটিসের পরিমাণ কমাতে সহায়তা করে। রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সূক্ষ্ম ও কোমল আমের পাতাগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিত্সার জন্য তাজা আমের পাতা হ’ল কার্যকর ঘরোয়া উপায়।

আমের পাতায় ভিটামিন সি, এ এবং ট্যানিন থাকে যা শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ডায়াবেটিসের প্রাথমিক চিকিত্সায় সহায়তা করে। ডায়াবেটিস কমাতে আমের পাতাগুলি ধুয়ে শুকিয়ে গুঁড়ো করে নিন। প্রতিদিন সকালে ও রাতে এই গুঁড়ো জল দিয়ে পান করুন। এক গ্লাস জলে কিছু তাজা আমের পাতা সিদ্ধ করে সারা রাত ঠান্ডা হতে দিন। সকালে খালি পেটে এর জল পান করুন.

২। নিম

নিমের তেতো পাতা ডায়াবেটিসের কার্যকর কার্যকর নিরাময় যা ভারতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। নিম বিটা কোষগুলিতে ইনসুলিন রিসেপ্টর সংবেদনশীলতা বাড়ায় যা রক্তে শর্করার মাত্রা হ্রাস করে এবং হাইপোগ্লাইকাইমিক ড্রাগের উপর নির্ভরতা হ্রাস করে। নিমকে শরীরের দ্বারা ইনসুলিনের প্রয়োজনীয়তা 60% পর্যন্ত হ্রাস করতে দেখা গেছে.

৩। সজনে পাতা

সজনে পাতা বা সজনে ডাটা সুগার কমাতে কার্যকর ঘরোয়া উপায়। সজনে পাতা রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখার এবং শক্তি বৃদ্ধিতে সক্ষমতার জন্য পরিচিত। সজনে পাতায় এমন পুষ্টি থাকে যা শরীরে ইনসুলিনের ক্ষরণ বাড়ায়।

এই পাতাগুলি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টগুলিতেও সমৃদ্ধ এবং এন্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ রয়েছে। ডায়াবেটিস কমাতে, আপনার খাদ্য তালিকায় 50 গ্রাম তাজা সজনে পাতা অন্তর্ভুক্ত করুন। এই পাতাগুলি রক্তে সুগার 21% হ্রাসের পাশাপাশি আপনার খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে তুলবে। এছাড়াও আপনি এটি সালাদ হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন.

৪। নিয়মিত ব্যায়াম

নিয়মিত ব্যায়াম আপনাকে ওজন হ্রাস করতে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করে। ব্যায়াম আপনার পেশীগুলিকে শক্তি এবং পেশী সংকোচনের জন্য রক্তে চিনির ব্যবহার করতে সহায়তা করে। আপনার যদি রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয় তবে আপনার নিয়মিত আপনার চিনির স্তর পরীক্ষা করা উচিত। ব্যায়ামের ভাল ফর্মগুলির মধ্যে রয়েছে ওজন উত্তোলন, দ্রুত হাঁটাচলা, দৌড়ানো, বাইক চালানো, নাচ, হাইকিং এবং সাঁতার কাটা ইত্যাদি.

৫। তুলসী পাতা

ইনসুলিনের সংবেদনশীলতা বাড়াতে পবিত্র তুলসীর পাতায় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং প্রয়োজনীয় তেলের মিশ্রণ পাওয়া যায়। সম্মিলিতভাবে, এই যৌগগুলি যেমন – ইউজেনল, মিথাইল ইউজেনল এবং কেরিওফিলিন, অগ্ন্যাশয় বিটা কোষগুলিকে, যা ইনসুলিন তৈরির জন্য দায়ী, সঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে। তুলসী পাতার একটি অতিরিক্ত সুবিধা হ’ল পাতায় উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টগুলি অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হ্রাস করে।

অতিরিক্তভাবে, এটিও পাওয়া গেছে যে তুলসী ইনসুলিন উত্পাদন বাড়ায় এবং গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত 7% এবং খাবারের পরে রক্তে শর্করার মাত্রা 17% হ্রাস করে। রক্তের শর্করার মাত্রা কমাতে আপনি খালি পেটে তুলসী পাতা পুরো বা প্রায় এক চা চামচ তুলসী পাতার রস নিতে পারেন.

৬। আমলকি

আমলকিতে পাওয়া ঔষধি গুণাগুণ আপনাকে ডায়াবেটিস কমাতে সহায়তা করতে পারে। আমলকি Vitamin -C এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস এবং এটি আপনার অগ্ন্যাশয়কে ভাল ইনসুলিন তৈরি করতে সহায়তা করে যাতে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।

ডায়াবেটিস কমাতে, 2-3 আমলকি নিন এবং সেগুলি পিষে নিন এবং পিষে রস বের করে নিন। একটি কাপ জলে প্রায় 2 চা চামচ এই রস মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে পান করুন। এ ছাড়া রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতে এক কাপ করলার রস এবং ১ টেবিল চামচ কুঁচির রস মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন। আপনিও প্রতিদিন কাঁচা আমলকি খেতে পারেন.

৭। ধুমপান ত্যাগ করুন

ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কথাটার যথাযথ প্রমাণ রয়েছে। ধুমপান সেবনে ডায়াবেটিস এমনকি ক্যান্সার মতো মরনব্যাধি রোগের সম্মুখীন হতে হয়। তাই আসুন ধুমপান ত্যাগ করি সুন্দর ভাবে জীবন-যাপন করি।

৮। পানি পান করুন

অতিরিক্ত পানি পান করলে ডায়াবেটিস রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যায়। তাই যারা ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত তাদের শরীরে পানি শুন্যতা রয়েছে। আপনার শরীরে শর্করার পরিমাণ যতো বেশি হবে ততো বেশি পরিমাণ পানি পান করা প্রয়োজন। প্রতিদিন অন্তত পক্ষে ২.৫-৩ লিটার পানি পান করা উচিত।

৯। কফি পান করুন

বেশ কিছু গবেষণা হতে এটা প্রামানিত হয়েছে যে প্রতিদিন ২,কাপ কফি পান করলে টাইপ -২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে আসে ২৯%। আর হ্যাঁ, কফিতে চিনি মিক্স করা যাবে না। কফি অ্যান্টঅক্সিডেন্ট উৎপাদনে সহায়তা করে। তাই আপনারা কফি খাবেন আর এই রোগের মাত্রা কমিয়ে আনবেন।

১০। দেহের ওজন বজায় রাখুন

অতিরিক্ত ওজন বিভিন্ন রোগের জন্য দায়ী। তাই চেষ্টা করবেন কম খাওয়ার,ওজন কে যেকোনো উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করবেন। আপনি জানেন কি? অস্বাস্থ্যকর ওজন শুধু ডায়াবেটিস নয় অনেক রোগের জন্য দায়ী। যদি আপনার শরীরের ওজন কমিয়ে নিয়ে আসতে পারেন তাহলে ৭০% ঝুঁকি কমিয়ে আসবে

১১। দারুচিনি খান

গবেষণা থেকে প্রমানিত হয়েছে যে,দারুচিনিতে রয়েছে অসাস্থ্যকর কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লািসাইড এর মাত্রা কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। আর এই দুটি উপাদান প্রকৃতিক ভাবে কমিয়ে আনলে দেখা যাবে যে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। তাই দারুচিনি তেল বা পাউডার আকারে খাদ্য তালিকায় রাখুন। কারণ এটি ডায়াবেটিসের মাত্রা কমিয়ে আনে ৪৮%।

১২।হাটাহাটি করুন

আপনারা নিশ্চয়ই এতোক্ষণে জানছেন অলস জীবন-যাপন করার কারনে ডায়াবেটিস রোগটি শরীরে বাসা বাঁধে। আপনারা যদি সকাল বিকাল প্রচুর পরিমাণে হাটাহাটি করেন। তাহলে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবোন এবং দিন দিন এর বৃদ্ধির মাত্রা কমে যাবে। তাই যারা ডায়াবেটিস রোগে ভুগতেছেন তারা প্রতিদিন অন্তত পক্ষে ১ ঘন্টা হাঁটাহাঁটি করুন।

আমার আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনি যদি আমার আর্টিকেলটি পড়ে একটুও উপকৃত হন তাহলে আমাকে কমেন্ট করে জানাবেন। আজকে এই পর্যন্ত জাওয়ার আগে সকলকেই আরো একবার লাল গোলাপের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। সকলেই ভালো থাকবেন,সুস্থ থাকবেন ধন্যবাদ সবাইকে

Leave a Reply

Your email address will not be published.