দিনাজপুর রাজবাড়ি কথায়,কিভাবে যাব,কোথায় থাকব,ইতিহাস

দিনাজপুর রাজবাড়ি কথায়,কিভাবে জাব,কথায় থাকব,ইতিহাস
দিনাজপুর রাজবাড়ি কথায়,কিভাবে যাব,কথায় থাকব,ইতিহাস

সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ দিনাজপুরের ইতিহাস অতি প্রাচীন ও সমৃদ্ধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনাজপুরের মাটির সাথে ভারতের লক্ষাধিক বছরের পুরনো প্রত্নস্থলের মাটির অসাধারণ মিল রয়েছে। এছাড়া দিনাজপুর জেলা পুরাকীর্তি সমৃদ্ধ। এসব স্থাপনার মধ্যে দিনাজপুর রাজবাড়ী অন্যতম।

এটি দিনাজপুর জেলার সদরের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। রাজারামপুর গ্রামের কাছে এই স্থানটি বিশেষভাবে ‘রাজ বাটিকা’ নামে পরিচিত। ইতিহাস থেকে জানা যায়, দিনাজপুর রাজবাড়ীটি রাজা দিনাজ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে অনেকের অভিমত, পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ইলিয়াস শাহীর শাসনামলে সুপরিচিত ‘রাজা গণেশ’ ছিলেন এই বাড়ির স্থপতি। শ্রীমন্ত দত্ত চৌধুরী সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগে দিনাজপুরের জমিদার হন। কিন্তু শ্রীমন্ত দত্ত চৌধুরীর ছেলের অকাল মৃত্যুতে তার ভাইপো “সুখদেব ঘোষ” সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন।

প্রকৃতপক্ষে বর্তমান দিনাজপুর রাজবাড়ি মানেই এর অবশিষ্টাংশ। এর বেশির ভাগই ধ্বংস হয়ে গেছে। মাত্র কয়েকটি ইনস্টলেশন এখন বিদ্যমান। প্রাসাদের প্রবেশপথে পশ্চিমমুখী একটি মিনারের আকারে একটি বিশাল খিলান রয়েছে। প্রাসাদের সীমানার মধ্যে বামদিকে একটি উজ্জ্বল রঙের কৃষ্ণ মন্দির এবং ডানদিকে প্রাসাদের বাইরের কিছু ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।

প্রাসাদের সীমানার ভিতরে আরেকটি খিলান রয়েছে, যেখান দিয়ে প্রাসাদের মূল বর্গাকার অংশে প্রবেশ করা হয়েছে। প্রাসাদের মূল অংশের পূর্বদিকে আরেকটি সমতল ছাদের মন্দির। যেটিতে অনেক হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি রয়েছে।

রাজবাড়ী প্রধানত তিনটি মহল বা ব্লক নিয়ে গঠিত। এই মহলগুলো হল: আয়না মহল, রানী মহল ও ঠাকুরবাটি মহল। পাশাপাশি আরও কয়েকটি ছোটখাটো স্থাপনা রয়েছে; যা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রাজা ও জমিদার পরিবারের উত্তরসূরিরা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই প্রাসাদের সীমানার মধ্যে আরও কয়েকটি মন্দির, বিশ্রামাগার, দাতব্য চিকিৎসালয়,

জলের ট্যাঙ্ক এবং আমলাদের কোয়ার্টার স্থাপন করা হয়েছিল। দিনাজপুর রাজবাড়ীর মোট জমির পরিমাণ ১৬.৪১ একর; এর মধ্যে রয়েছে দুটি বড় জলের ট্যাঙ্ক, একটি মঠ, একটি বাগান, একটি মাটির ঘর, একটি টেনিস কোর্ট এবং পূর্ব ও পশ্চিম দিকে একটি কুমোরের বাড়ি।

এই বিশাল প্রাসাদটির রয়েছে আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। এই প্রাসাদটি বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কর্তৃক স্বীকৃত নয়। তাই অযত্নে অবহেলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বিশাল এই স্থাপনা।

কিভাবে যাব:

ঢাকা থেকে বাস ও ট্রেনে দুইভাবে যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে দিনাজপুরের বাস সাধারণত গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে ছেড়ে যায়। ঢাকা থেকে আসাদগেট, কলেজগেট, শ্যামলী, কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল জংশন অথবা গাবতলী থেকে শ্যামলী, হানিফ, নাবিল, বাবলু এন্টারপ্রাইজসহ অনেক বাস সরাসরি দিনাজপুর যায়। গাড়িগুলি সারাদিনে প্রায় 30 মিনিট বা 1 ঘন্টা পরপর ছেড়ে যায়। এছাড়া উত্তরা থেকেও কিছু বাস দিনাজপুর যায়।

অথবা ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৬:৪০ মিনিটে আন্তঃনগর ট্রেন এক্সপ্রেস ধরুন। আর আন্তঃনগর একতা এক্সপ্রেস সকালে ছেড়ে যায়। দিনাজপুর শহর থেকে অটোরিকশায় করে প্রাসাদে যাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.