পৃথিবীর ১০ টি শক্তিশালী দেশ?পৃথিবীর কোন দেশের সবচেয়ে শক্তি বেশি?

হাই বন্ধুরা আপনারা সকলে ভালো আছেন ।আপনাদের দোয়াতে আমিও ভাল আছি। তো বন্ধুরা আজকে আমি আপনাদেরকে জানাবো বিশ্বের সবথেকে 10 টি শক্তিশালী দেশ সম্পর্কে।এই শক্তিশালী দেশগুলোতে কত পরমাণু বোমা আছে। কতগুলো সৈন্য সংখ্যা আছে এবং কতগুলো অস্ত্র আছে সব বিষয়ে আমি আপনাদের সামনে আলোচনা করবো। তো বন্ধুরা চলুন শুরু করা যাকঃ-

পারমাণবিক বোমা 2পৃথিবীতে এমন কিছু দুর্বল দেশ রয়েছে যাদের মুহূর্তেই শক্তিশালী দেশগুলোর চাইলেই দখল করে নিতে পারে। আবার এমন কিছু দেশ রয়েছে যা দখল করা অসম্ভব। এমন দশটি দেশ আছে যাদের যুদ্ধে হারানো অসম্ভব ।তাদের কাছে রয়েছে পারমাণবিক বোমা। শক্তিশালী সেনাবাহিনী আর রয়েছে শক্তিশালী ভৌগোলিক অবস্থান আর বন্ধুরাষ্ট্র। চলুন দেখে আসি পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী 10 টি দেশ যাদের হারানো অসম্ভব।

পারমাণবিক বোমা 1

ইরানঃ-

ইরান পরমাণু শক্তিধর দেশ। আর বিগত কয়েক বছরে ইরান পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে। আর পারমাণবিক পরীক্ষা করার জন্য বেশ কয়েকবার ইরান বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ত্র কেনা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত ইরানের কাছে কতগুলো পারমাণবিক বোমা রয়েছে তা কেউ জানে না ।

ইরানের পারমাণবিক বোমা ছাড়াও রয়েছে শক্তিশালী সেনাবাহিনীর। ইরানের রয়েছে চার লক্ষ নব্বই হাজার হয়েছে অত্যাধুনিক সেনাবাহিনী যুদ্ধ ট্যাংক ১০০০ এর মত ফাইটার জেট ইরানের রয়েছে। অত্যাধুনিক মিসাইল সিস্টেম ইরানকে দখল করে নিয়েছে।

উত্তর করিয়াঃ-

উত্তর করিয়া প্রথম পরমাণু পরীক্ষা অক্টোবর ২০০৬ সালে করে। আর এরপর একের পর এক পরমাণু পরীক্ষা করতে থাকে। উত্তর করিয়া কাছে বিপুল পরিমাণ পারমানবিক বোমা রয়েছে।

আপনি হয়তো উত্তর করিয়া প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের বক্তব্য শুনে থাকবেন নর্থ কোরিয়া থেকে কেউ যদি তাকায় তাহলে নর্থ কোরিয়ার পারমাণবিক হামলা করতে উত্তর করিয়া পারমাণবিক বোমা ছাড়াও রয়েছে লক্ষ ৪৫ ১০৯।উত্তর করিয়া ছোটদেশ হলেও অনেক শক্তিশালী ।তাই বলা যায় উত্তর করিয়া যুদ্ধে হারানো অসম্ভব।

ইসরাইলঃ-

ইসরাইল দেশটি ছোট হলেও দেশটির পরমাণু শক্তিধর দেশ। এ দেশের কাছে 80 থেকে 90 টির মত পারমানবিক বোমা রয়েছে। আর ইসরাইল পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের মধ্যে একটি। মনে হয় ১৯৫০ সালে প্রথম পরমাণু পরীক্ষা চালায় এবং সফল হয়।

এরপর দেশটি কিভাবে এতগুলো পরমাণু বোমা তৈরি করে তা আজও অজানা রয়েছে। এক লক্ষের মত একটিভ সৈন্য সংখ্যা এছাড়াও এদেশের সকল নারীকে দুই বছর এবং সকল পুরুষকে তিন বছরে আর্মি ট্রেনিং দেওয়া হয়। এর জন্য ইসরাইলকে পৃথিবীর সেরা ১০ টি শক্তিশালী দেশের মধ্যে সীমানা হয়।

ভারতঃ-

ভারতের রয়েছে ১২০ টি পারমাণবিক বোমা ভারতের এমন কিছু পরমাণু অস্ত্র রয়েছে যা দিয়ে ভারত এশিয়া কে আক্রমণ করতে সক্ষম। ভারত ১৯৭৪ সালের অনেক গোপনীয়তা বজায় রেখে পরমাণু টেস্ট করে। এরপর ১৯৯৮ সালে ভারতে আবারও পরমাণু টেস্ট করে।

ভারতের পরমাণু অস্ত্র ছাড়াও রয়েছে ২৫ লক্ষ একটিভ সৈন্য সংখ্যা থাকার জন্য ভারত পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী দেশ। ভারত ভূমি এবং সাবমেরিন থেকে পরমাণু হামলা করতে সক্ষম। ভারত শুধু নিজেদের সুরক্ষার জন্যই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছে যতক্ষণ ভারতের উপরে হামলা না করবে ততক্ষণ ভারত ও কার ওপর আক্রমণ করবে না।

পাকিস্তানঃ-

পাকিস্তান ও ভারতের মতো ১৯৭৪ সালে পরমাণু পরীক্ষা করে। পাকিস্তানের কাছে ১৩০ টির মত পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। যা পাকিস্তান আকাশ ভূমি এবং সাবমেরিন থেকে আক্রমণ করতে সক্ষম হাতিয়ার এর জন্য।

পাকিস্তান ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছে পাকিস্তানের রয়েছে সাত লক্ষ সেনাবাহিনী রয়েছে।অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান রয়েছে অসংখ্য যুদ্ধজাহাজ পাকিস্তানের কাছে থাকার জন্য আমাদের ৬ নম্বরে স্থান করে নিয়েছে।

ইংল্যান্ডঃ-

ইংল্যান্ড অক্টোবর ১৯৫২ সালে ইংল্যান্ড পরমাণু অস্ত্র বানাতে সক্ষম হয়। ইংল্যান্ডে সময় পৃথিবীর তৃতীয় শক্তিশালী দেশে পরিণত হয়। ইংল্যান্ডে আজ পর্যন্ত 45 বার নিউক্লিয়ার টেস্ট করেছে। আশির দশকে ইংল্যান্ডের কাছে ৩৫০ ঠিকমতো পরমাণু অস্ত্র ছিল।

কিন্তু ইংল্যান্ড বর্তমানে পরমাণু অস্ত্র নিষিদ্ধ করেছে এবং তাদের পরমাণু অস্ত্র নষ্ট করে ফেলেছে। এখন ইংল্যান্ডের কাছে ২৫০ টির মত পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। পাঁচ নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে। আর যে দেশের হাতে 250 টি পরমাণু অস্ত্র থাকে আর তা ব্যবহারের জন্য বিমান সাবমেরিন থাকে তাদের আর কোন অস্ত্রের প্রয়োজন পড়ে না।

চায়নাঃ-

চায়না পৃথিবীর এক মাত্র মহাশক্তিশালী দেশ। চীন পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী রয়েছে। চীনাদের কাছে তিন হাজারসৈন্য সংখ্যা রয়েছে। ১৯৬৪ সালে প্রথম পরমাণু পরীক্ষা চালায়। আজ পর্যন্ত ২২ আকাশে আর ৩০ ভূমির ভিতরে। মোট ৪৫ টা নিউক্লিয়ার টেস্ট করেছে।

আর চীনের ২৪৫ মত পরমাণু অস্ত্র রয়েছে ।প্রতিনিয়ত তাদের পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে। তাদের অত্যাধুনিক টেকনোলজির জন্য সারা পৃথিবীতে বিখ্যাত যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে সব রকম যুদ্ধ অস্ত্র নিজের দেশেই তৈরি করে থাকে।

ফ্রান্সঃ-

ফ্রান্স তাদের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর জন্য তারা পুরো পৃথিবীতে বিখ্যাত। নিজের দেশের জন্য অস্ত্র তৈরি করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে সারা পৃথিবীতে বিক্রি করে থাকে। ফ্রান্সের যুদ্ধবিমানগুলো পৃথিবীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ১৯৬০ সালে থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ফ্রান্স ৩১০ নিউক্লিয়ার টেস্ট করে।

কিন্তু এর পরও সরকার সিদ্ধান্ত নেয় তারা আর পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। তার কাছের মনে হয়েছে যে দেশের কাছে প্রথম থেকে ৪০০ মতো পরমাণু অস্ত্র থাকে।

আমেরিকাঃ-

আমেরিকা প্রথম দেশ যারা প্রথম পরমাণু অস্ত্র তৈরি করেছে। আরে আমেরিকায় প্রথম দেশ যারা যুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করেছে। জাপানের হিরোশিমা নাগাসাকিতে আমেরিকা যে পরমাণু হাতিয়ার ব্যবহার করেছিল তাকে আমরা পৃথিবীর সবচাইতে জঘন্য ঘটনা বললেও ভুল হবে না।

আজ আমেরিকার কাছে প্রায় সাড়ে সাত হাজারের মতো পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। আর আমেরিকার কাছে থাকায় পরমাণু অস্ত্র দিয়ে পুরো পৃথিবী কে ৩০ বার ধ্বংস করা যাবে। আর এ কারণে আমেরিকাকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ বলা হয়।

রাশিয়াঃ-

রাশিয়ার কাছে সাড়ে ৮ হাজারের মতো পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। যদি পরমাণু অস্ত্রের দিক থেকে ভাবা হয় তাহলে রাশিয়া পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। ১৯৪৯ সালে রাশিয়ার প্রথম পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে।

এরপর রাশিয়া আর আমেরিকার মধ্যে পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতা লেগে যায়। সারা পৃথিবীতে শক্তিশালী রাষ্ট্রের জন্য বিখ্যাত রাশিয়ার কাছে সবচেয়ে কম রেঞ্জের পরমাণু থেকে শুরু করে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অস্ত্র রয়েছে। তাই পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ বলা হয়।

পারমাণবিক বোমাআমার এই পোস্টটি যদি আপনাকে ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন ।আজ এ পর্যন্তই সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.