পৃথীবীর সবচেয়ে সেরা ১০ টি ব্যস্ততম বিমানবন্দর কোনগুলো।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণের জন্য বর্তমানে আকাশ পথে যাতায়াতের সবচেয়ে সহজ। আর তাই আকাশপথে ভ্রমণের জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ২০০৪ সালে বিশ্বে আকাশপথে ভ্রমণকারী মোট মানুষের সংখ্যা ছিল দুই হাজার মিলিয়ন বা ২০০ কোটি। জাতিসংঘের হিসেবে বর্তমানে বিশ্বে মোট বিমানবন্দরের সংখ্যা প্রায় ২০,০০০এর মধ্যে কমপক্ষে ১৪ হাজার বিমানবন্দর রয়েছে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের। অধিকাংশ মালামাল পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়। চলুন আর দেরি না করে শুরু করা যাক, বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম বিমানবন্দর সম্পর্কে।

দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরঃ
দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংযুক্ত আরব আমিরাত পৃথিবীর ব্যস্ততম বিমানবন্দর তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যাত্রী হিসেবে এটি তৃতীয় ব্যস্ততম হলেও, এর মতো বিশ্বের বৃহত্তম যাত্রীবাহী বিমানের হিসেবে এটি পৃথিবীর ব্যস্ততম বিমানবন্দর। বিমান প্রতি জাতি হিসেবেও এটি পৃথিবীর বিমানবন্দর গুলির মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে দুবাই শহরের অদূরে অবস্থিত ।

বিমানবন্দরের আয়তন ৩১২১ কিন্তু বিশ্বের বৃহত্তম এয়ারপোর্ট টার্মিনাল ভবন এর অবস্থান। এখানে একই সাথে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দুবাই শহরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। এই বিমানবন্দর থেকে কারণেই বিমানবন্দর কে কেন্দ্র করে কমপক্ষে চার লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ২০১৮ সালে বিমান বন্দর শহরের অর্থনীতিতে যোগ করেছে। ২৬.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিমানবন্দর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল। প্রায় ৮কোটি ৯২ লাখ। যা আগের বছরের তুলনায় শতকরা এসেছিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।


প্যারিস বিমানবন্দরঃ
প্যারিস জনগণ বিমানবন্দর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের অবস্থিত। বিমানবন্দরের আয়তন হিসেবে ইউরোপ মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দর। ১৯৭৪ সালের মার্চে যাত্রা শুরু করায় বিমানবন্দরের নাম রাখা হয় বিখ্যাত ফরাসি জেনারেল।এছাড়া ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত জানা ১০ বছর তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

বিমানবন্দর ২৫ কিলোমিটার উত্তর পূর্বে অবস্থিত। একটি সংস্থা দ্বারা পরিচালিত বিমানবন্দর হিসেবে ভূমিকা পালন করে। ২০১৮ সালের সাত কোটি ২২ লাখ ২৯হাজার ৭২৩ জন যাত্রী আসা-যাওয়া করেছেন। ২০১৭ সালের তুলনায় শতকরা ৪ ভাগ বেশি ছিল। ৮০হাজার ৯৪৫ বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। আমাদের ব্যস্ততম বিমানবন্দরের তালিকা দশম স্থানে নিয়ে এসেছে।

হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরঃ
হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি যাত্রা শুরু করে ১৯৯৮ সালে। বিশ্ব মানচিত্রের অবস্থান বাণিজ্যিকভাবে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায়-জাতির সংখ্যার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর। এছাড়া এ বিমানবন্দর হংকংয়ের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন। বিমানবন্দর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০১৮ সালের সাত কোটি ৪৫ লাখ এর কিছু বেশি।

লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দর ইংল্যান্ডঃ
লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দর ইংল্যান্ড লন্ডনের বিখ্যাত বিমানবন্দর। শুধু ইউরোপ মহাদেশের ব্যস্ততম বিমানবন্দরের নাম একই সাথে এটি আন্তর্জাতিক যাত্রী হিসেবে পৃথিবীর দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর। বৃহত্তর বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে জনপ্রিয়তার বিচারে বিমানবন্দর অবস্থান করছে।

শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। বিমানবন্দরের আয়তন বর্গকিলোমিটারে কিছু বেশি প্রতিষ্ঠানে দ্বারা পরিচালিত। এই বিমানবন্দর দিয়ে ২০১৮ সালে যাতায়াতকারী মোট যাত্রীর সংখ্যা ছিল আজ ৫ কোটির বেশি। আগের বছরের তুলনায় শতকরা ২.৭৫বেশি হাজারের বেশি।

ওভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরঃ
ওভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্র ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো শহরে অবস্থিত। বিমানবন্দরটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি করা হয়। ওই যুদ্ধে নৌবাহিনীর প্রথম পদক প্রাপ্ত কর্মকর্তা এডোয়ার্ড প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এর নাম রাখা হয় উহারা বিমানবন্দর। প্রতিষ্ঠার পর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন বিমানবন্দরটি সশস্ত্র বাহিনীর পণ্য পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হয়। পরে সোভিয়েত রাশিয়ার সাথে যুদ্ধের সময় উহারা বিমানবাহিনীর জঙ্গী বিমান ঘাঁটি হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

বিমানবন্দরের আয়তন ৭৬০৭ এই বিমানবন্দর থেকে উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকা ভেরিয়েশনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিমানবন্দরের, আয়তন ৭৬৭৭। এই বিমানবন্দর থেকে উত্তর এবং দক্ষিণ আমেরিকা ছাড়াও ইউরোপ আফ্রিকা এশিয়া এবং ওশেনিয়ার ২২৮ টি গন্তব্যে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ২০১৮ সালের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৮ কোটি ৩৩ লাখ এর কিছু বেশি। আগের বছরের তুলনায় শতকরা ৪.৪ ভাগ বেশি ফলে আমাদের ব্যস্ততম বিমানবন্দরের তালিকা অবস্থান করেছে।

হানেদা বিমানবন্দরঃ
হানেদা বিমানবন্দর জাপান টোকিও শহরের মাত্র ১৪ কিলোমিটার দক্ষিনে অবস্থিত। এই বিমান বন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীর সংখ্যা ২০১৮ সালে ছিল ৮কোটি ৭১ লাখ এর কিছু বেশি। যা তার আগের বছরের তুলনায় শতকরা ২ ভাগ বেশি হলেও ওই বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে বিমানবন্দরটি বিশ্বের চতুর্থ ব্যস্ততম বিমানবন্দরের অবস্থানে। ছিল ২০১৮ সালে এটি ব্যবহারকারী যাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও আমাদের তালিকার পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে।

লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরঃ
লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্র লস এঞ্জেলেস শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত। এই বিমানবন্দরটি স্থানীয়দের কাছে এলে এক্স নামে সুপরিচিত। লস এঞ্জেলেস সরকারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। এবং যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দরের আয়তন সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি। বিমানবন্দরটি ২০১৮ সালে মোট ৮ কোটি ৭৫ লাখ এর বেশি যাত্রী আকাশ পথে যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করেছেন। তার আগের বছরের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা ছিল শতকরা ৩ ভাগ বেশি।

বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরঃ
বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চীন বিশ্বের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমান বন্দরের অবস্থান। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির ২০১০ সাল থেকেই এটি জাতিসংঘের হিসেবেই অবস্থান ধরে রেখেছে। বেইজিং শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে 32 কিলোমিটার উত্তর পূর্বে অবস্থিত। এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে ২০১৮ সালের বিশ্বের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ। যা তার আগের বছরের তুলনায় শতকরা ৫.৪ ভাগ বেশি বিমানবন্দর পরিচালনার দায়িত্বে, থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠান নাম ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড আন্তর্জাতিক বিমান।

জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
হার্টফেল জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যুক্তরাষ্ট্র যথারীতি। আমাদের তালিকার শীর্ষে থাকা বিমান বন্দরের অবস্থান পৃথিবীর বৃহত্তম অর্থনীতির যুক্তরাষ্ট্রের। শুধু তাই না সেই ১৯৯৮ সালের উপর্যপরি ২১ বছর বিমানবন্দরটির সগৌরবে খেতাব ধরে রেখেছে। অবস্থিত বিমানবন্দরের আয়তন ৪৭২১ কিন্তু এখানে যাত্রীদের জন্য মোট হাড়ের সংখ্যা ১৯২ টির মধ্যে ৪৪ টি আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য আর বাকি ১৫২ অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের জন্য।

পাশাপাশি ৫৫ পৃথিবীতে একমাত্র এই বিমানবন্দর দেখা যাবে। এই বিমানবন্দর থেকে দক্ষিনে এবং দক্ষিণ আমেরিকা ছাড়াও ইউরোপ আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো যুক্তরাষ্ট্রে আশা আন্তর্জাতিক জাতি হিসেবে এই বিমানবন্দর দেশের সপ্তম ব্যস্ততম তারপরেও এটি বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দর হয়।

কিভাবে কারণ এই বিমান বন্দর ব্যবহারকারী প্রায়১০ লাখ বিমানের সিংহভাগই তিন যাত্রী পরিবহনে ব্যস্ত থাকে। যার কল্যানীর ২০১৮ সালের বিমানবন্দর ব্যবহারকারীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় শতকরা ৩.৩ বেড়ে প্রায় ১০ কোটি ৭৫ লাখ পৌঁছে যায় ১১ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিমানবন্দরের নাম রাখা হয়েছে সাবেক মেয়র এর নাম সংযুক্ত করে।

আমার এই পোষ্টি যদি আপনাদের ভালো লাগে তাহলে কমেন্ট করে জানাবেন।আজ এ পর্যন্তই সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, এবং নিরাপদে থাকবেন।
ধন্যবাদ সবাইকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.