ফেরাউন লোহিত সাগরে নাকি নীলনদে ডুবেছিল ?

ফেরাউন লোহিত সাগরে ডুবেছিল নাকি নীলনদে। আমরা প্রায়ই শুনতে পাই যে ডঃ মরিস বুকাইলি ইসলাম গ্রহণের বিস্ময়কর কাহিনী 1981 সালে মিশর থেকে ফেরাউনের লাশ আনা হয়েছিল। ফ্রান্সে রাজকীয় সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল দ্বিতীয় অভিশপ্ত লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়ে বরণ করা হয় ।ফেরাউনকে এর আগে তার পাসপোর্ট তৈরি করা হয় আর পাসপোর্টে তার পরিচয় লেখা হয় মহান সম্রাট ফ্রান্সের। জীবিত বা মৃত পাসপোর্ট ছাড়া ঢুকতে পারবে না।

নিয়ম মেনে তাকে হাজির করা হয়। বিখ্যাত সব সার্জন এবং বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে আবিষ্কার করেন যে মৃত সাগরের পাওয়া গেছে। সাগরে ডুবে মরা ছাড়া আর কিছু নাহ। প্রমাণ করে মুসা নবী কে ধরতে গিয়ে তার এই অবস্থা। কেউ একজন বলে মুসলমানদের কুরআন এমন তথ্য রয়েছে। তিনি বলেন আমরা কেবল মাত্র আবিষ্কার করলাম আজ থেকে চৌদ্দশ বছর আগে কি করে এমন কথা বলবেন পরে তিনি। কোরআন শরীফ খুলে নিজে যখন এই সব আয়াত দেখেন তখন সঙ্গে সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেন সুবহানআল্লাহ

এ থেকে প্রমাণ হয় যে কোরান আল্লাহর কালাম। ডঃ মরিস বুকাইলির জন্ম 1920 সালে তার মৃত্যু হয়েছে যার 1998 সালে। 17 দশকের সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সাল এবং মিশরের বাচ্চা আনোয়ার সাদাতের পারিবারিক চিকিৎসক ছিলেন। এরপর হঠাৎ করেই আশির দশকে ইসলাম সম্পর্কে তাঁর আগ্রহের খবর পাওয়া যায়। উপরের গল্পের মত নানান গল্প ছড়িয়ে আছে। মুসলমানদের মাঝে মরিস বুকাইলি অনেক তর্ক আছে। সেইসব তর্কের না গিয়ে মূল আলোচনায় প্রবেশ করি।

ফেরাউন কোথায় ডুবে ছিল। লোহিত সাগরে নাকি নীলনদের। গল্প সত্যি হলে বলতে হয় সাগরে ডুবেছিল । মুসা আলাই সালাম এর সময় ফেরাউন কিনা এ নিয়ে প্রত্নতাত্ত্বিক এবং ঐতিহাসিকদের মতে কোন শেষ নেই। এবং অভিশপ্ত ফেরাউন আজ থেকে সাড়ে তিন হাজার বছর আগের সময় তাদের অবস্থান সেই সময় এলো না। এখনো শরীরে লেগে থাকা তথ্য বিশ্বাস করতে বিজ্ঞানমনস্ক মুসলিমদের কষ্ট হবে্। আমরা সরাসরি কোরআন থেকেই এর সমাধান বের করার চেষ্টা করতে পারি।

পবিত্র কুরআনে হযরত মুসা এবং ফেরাউনের ঘটনা বহু স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। এত অধিক আলোচনা কোন মানুষের ব্যবহারই করা হয়নি। এত আলোচনা সত্বেও কোথাও এই কথা স্পষ্ট করা হয়নি মদিনা সাগরে নিমজ্জিত হয়েছিল। ফেরাউন দুই রকম দাবি করা হয়ে থাকে এবং দুই দাবির পক্ষে রয়েছে বেশকিছু সাক্ষ্যপ্রমাণ। মূলত পবিত্র কোরআনের আয়াত সমূহের দরজাতেও বিভিন্ন দেখা যায় যেমন এখানে, সূরা যারিয়াত এর 40 নম্বর আয়াতের অর্থ দেখুন গিরিশচন্দ্র তার তরজমা লিখেছেন।

পরে আমি ফেরাউনকে এবং ফেরাউনের সৈন্যদেরকে আক্রমণ করিলাম অবশেষে তাহাদিগকে নদীতে নিক্ষেপ করিলাম বিজ্ঞানীরা প্রাচীন মিশরে আরো নদী থাকার দাবি করেছেন। যদি তাই হয় তাহলে অন্য কোন নদীতে ফেরাউনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না। বিতর্ক দীর্ঘ না করে নদী না সাগর তার একটা সমাধানে আসার চেষ্টা করা যায় ।পবিত্র কোরআনের বিবরণ থেকে মূলত পবিত্র কোরআনে এই ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে দুইটি শব্দ ব্যবহার করা হচ্ছেঃ একটি হচ্ছে বর্তমান আরবিতে শব্দটি বললেই সাগর ।

বোঝায় কিন্তু পবিত্র কোরআনে বাহার শব্দটি একাধিক স্থানে বিপরীতে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ স্থল এর বিপরীতে যেকোনো জলমগ্ন স্থানকেই আরবি অভিধান এর বলা হয় ।আরিয়ান শব্দটি কুরআনে ফেরাউনের ঘটনা ছাড়া আরো কয়েক স্থানে এসেছে। যেখানে নদী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এখানে এসে সূরা বাকারা একটি আয়াত যখন তোমাদের জন্য দিকে বিভক্ত করেছেন এবং তোমাদেরকে উদ্ধার করেছিলেন ।এবং ফেরাউন সম্প্রদায়ের গিয়েছিলাম আর তোমরা তো প্রত্যক্ষ করছিলে ।

’’সূরা বাকারা আয়াত 50 এই আয়াতে আল্লাহ বলেছেনঃ ফেরাউনের ডুবে যাওয়ার বিষয়টি বনী ইসরাঈল দেখছিল। এখন বুঝুন লোহিত সাগরের প্রস্তুতি কিলোমিটার উপরে যাওয়ার পর বনি ইসরাইল কমপক্ষে 200 কিলোমিটার দূর থেকে ফেরাউনকে দেখেছে। নীলনদের বর্তমান প্রায় তিন কিলোমিটার প্রাচীন মিশরের আরো দীর্ঘ মোটেই অসম্ভব নয়। আমাদের পদ্মা নদীর মতো অবস্থায় যদি ফেরাউন নীল নদে ডুবে তাহলে, কোরআনের বিবরনের সাথে মোটেও অসঙ্গতিপূর্ণ মনে হয় না।

তিন ও চার কিলোমিটার পথ খালি চোখে দেখা সম্ভব কিন্তু কিলোমিটার পথ খালি চোখে দেখা যায় না। তাছাড়া দক্ষিণ মিশরে বনি ইসরাইলের বসবাসের কথা প্রতীক গবেষক এবং ঐতিহাসিক বলেছেন বনি ইসরাইলের কিছু বংশবিস্তার হয়েছিল মিশর থেকে যাত্রার শুরুতেই। তারা মরুভূমির পথ বেছে নিয়েছে বলে মনে হয় না তাতে লেখা আছে কয়েক মাস পর তারা সিনাই পর্বতে গিয়ে পৌঁছায়। আরও একটি বিষয় ফিরাউনের বনী ইসরাঈল লোহিত সাগর অভিমুখে যাত্রা করলে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজনে লোহিত সাগর তারপর আবার লোহিত সাগরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মনে হয়না আর অলৌকিক ভাবে তাড়াতাড়ি এত দীর্ঘ পথ পাড়ি।

সবশেষে সূরা ইউনুস এর বর্ণ দিয়ে আলোচনা করব ইরশাদ হয়েছেঃ আজ আমি তোমার দেহকে রক্ষা করব যাতে তুমি তোমার পথে যারা থাকবে তাদের জন্য নিদর্শন হও অবশ্যই মানুষের মধ্যে অনেকেই আমার নিদর্শন সম্পর্কে গাফিল ।ইউনুস আয়াত ইমাম তাফসীরগ্রন্থ ইবনে আব্বাসের অধ্যায় থেকে বর্ণনা করেন, বনী ইসরাঈল জলরাশি পাড়ি দেয়ার পর সন্দেহ করেছিল যে, ফেরাউন মরেছে কিনা তাড়াতাড়ি দেখতে চাচ্ছিল ।

এরপর আল্লাহ তায়ালা ফেরাউনের লাশ দিয়ে ছুড়ে ফেলেন আর বনি ইসরাইল তা দেখে নিশ্চিত হয়ে এখন অনেকেই এর অর্থ করেছেন। কেয়ামতের আগ পর্যন্ত তার সংরক্ষিত থাকার কথা আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ অথচ নিশ্চিত করে এমন দাবি করা যায় না কোরআনের আয়াতের অর্থ ইবনে আব্বাস এবং অন্য মুফাসসিরের তারা যেভাবে করেছেন তাতে বরং অন্য অর্থই আসে এই দীর্ঘ আলোচনা থেকে আমাদের শিক্ষা হচ্ছে আমরা অবশ্যই আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের উপর ঈমান রাখতে হবে।

বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হোক বা না হোক কোরআন মিথ্যা হতে পারে না। কোরআন কখনোই মিথ্যা হতে পারেনা ।কোরআনের কোন বিষয় বৈজ্ঞানিক কোনো সমর্থন পেয়ে উল্লাসিত হওয়া ঠিক নয় ।ভালো করে যাচাই করে নেয়া উচিত ফেরাউন লোহিত সাগর না সাগর না মিশরের নীলনদ না অন্য কোন জলাশয় ডুবেছে। আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না আর এই কারণে এটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করা পাগলামো ছাড়া কিছুই নয় ।

ফির’আউন লোহিত সাগরে ডুবে মারা গিয়েছে এটিই সঠিক বক্তব্য যেটি ঐতিহাসিকভাবেও একটি স্বীকৃত বিষয়। কুরআনে কারীমের মধ্যে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়াতা’আলা ইরশাদ করেন,

فَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ مُوسَىٰ أَنِ اضْرِب بِّعَصَاكَ الْبَحْرَ ۖ فَانفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَالطَّوْدِ الْعَظِيمِ

“মূসাকে আমি ওয়াহী প্রেরণ করলাম এভাবে যে তুমি তোমার লাঠি দিয়ে সমুদ্রে আঘাত কর।” এখানে আল বাহার বলতে যে সমুদ্রকে বুঝানো হয়েছে সেটি হচ্ছে লোহিত সাগর আর এটিই মিশরের পাশে অবস্থিত। মিশরের পাশে আর কোনো সাগর নেই। এটি হচ্ছে প্রথম কথা। আর নীল নদ হচ্ছে একটি নদী যেটিকে ফির’আউনের যুগ থেকে নিয়ে বর্তমান যুগ পর্যন্ত নাহারুন নীল বলা হয়।

সুপ্রিয় দর্শক এই ছিল আমাদের আজকের পোষ্টি ভাল লেগে থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.