ফ্রিল্যান্সিং এর জন্য ল্যাপটপ নাকি কম্পিউটার (ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের সুবিধা ও অসুবিধা)।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই ইন্টারনেট সংযোগ দিতে হবে।আর ইন্টারনেট সংযোগ দিতে গেলে অবশ্যই একটি ল্যাপটপ বা কম্পিউটার দরকার ।কাজের দিক থেকে ল্যাপটপ অনেকটা স্লো কাজ করে।অপরদিকে কম্পিউটার বেশ গতিশীল। নিম্নে ল্যাপটপ ও কম্পিটার নিয়ে বেশ কিছু সুবিধা ও অসুবিধা উল্লেখ করা হল।

কম্পিউটার

best computarকম্পিউটারের সুবিধাঃ-

আপনি যখন কোন জরুরী কাজ করবেন তখন লোডশেডিং হলে কম্পিউটারে ইউপিএস দিয়ে ত্রিশ মিনিট এর মত ব্যাকআপ পাবেন। কম্পিউটারের দ্বারা গবেষণার কাজ করা যায়, ইন্টারনেট সুবিধা, মাল্টিমিডিয়া ডিভাইসের সুবিধা ও তথ্য জমা রাখা যায় এবং অনলাইনে ব্যবসা করা যায়। কম্পিউটার এর সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনার ক্ষেত্রে সুবিধার একটি বড় অংশ হল ইন্টারনেট। কম্পিউটারের মাধ্যমে আপনি যেকোনো ক্ষেত্র সার্চ করলে খুঁজে পাবেন।

এই মাধ্যমে আপনি ক্যালকুলেশন, ডাটা সঞ্চয় করতে এবং যেকোনো ডাটা উপস্থাপন করতে পারবেন। বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় কম্পিউটার ব্যবহার করে।ইন্টারনেটের দ্বারা বিদেশে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে ভিডিও চ্যাট করতে পারবেন। এছাড়াও নেট সার্চ, সিনেমা ও গেমস খেলতে পারবেন। এটি সর্বশ্রেষ্ঠ কম্পিউটারের সুবিধা বলে বিবেচনা করা হয়।বড় বড় কোম্পানিগুলি তাদের মার্কেটিং এর তথ্যগুলি কম্পিউটারে জমা করে রাখে।

এমনকি গ্রাহকদের সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষিতভাবে রাখার জন্য কম্পিউটারাইজড করে রাখে।কম্পিউটার ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনোয় ক্ষেত্রে অনেক সুবিধা নিয়ে এসেছে। বিশ্বে ৫০ শতাংশ মানুষ এখন ওয়েবসাইট থেকে শিক্ষাগত জ্ঞান অর্জন করে।

কম্পিউটারের অসুবিধাঃ-

ল্যাপটপের থেকে কম্পিউটার অনেক বড়,একারনে কম্পিউটার এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সহজে বহনযোগ্য হয় না।এছাড়া দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার ব্যবহার করলে চোখের উপর নেতিবাচক পড়ভাব পড়ে। চোখের পেশিতে চাপ পড়ে ফলে চোখের ক্ষতি হয়। তাছাড়াও দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার ব্যবহারের ফলে ঘাড় ও মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। অনেক মানুষ গেম খেলতে ও দীর্ঘসময় চ্যাট করার জন্য কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকে। এতে সময় ও শক্তি অপচয় হয়।

ঘাড়, আঙুল এবং কাঁধে ব্যথা। অনেক ক্ষণ মাউস ধরে কাজ করলে আঙুলে রক্তসঞ্চালন কম হয়। ফলে আঙুলে ব্যথা অনুভব করতে পারেন। কাঁধের পেশিতেও ব্যথা হতে পারে। কব্জি ও আঙুলে কার্পাল টানেল সিনড্রোম দেখা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ে। যদিও কাজ করার ক্ষেত্রে কম্পিউটারের কিছু অসুবিধা থাকতে পারে কিন্তু দিন শেষে ফিল্যান্সিং এর জন্য কম্পিউটারই পারফেক্ট।

ল্যাপটপ

laptopল্যাপটপের সুবিধাঃ-

আপনি যখন কোন জরুরী কাজ করবেন তখন লোডশেডিং হলে কম্পিউটারে ইউপিএস দিয়ে ত্রিশ মিনিট এর মত ব্যাকআপ পাবেন।বিপরীতে ল্যাপটপে আরো অনেকবেশি সময় ব্যাকআপ পাবেন।আর বড় কথা হলো,ল্যাপটপ নিয়ে যেকোন জায়গাতেই যেতে পারবেন । ভ্রমনে কোথাও গেলেন,প্রয়োজনে দুতিন ঘন্টা কাজ করতে পারবেন।আবার বিনোদনের বাক্স হিসেবেও রাখতে পারবেন।

এর সবচেয়ে বড় সুবিধাটি খুব শক্তিশালী পোর্টেবিলিটি থাকা উচিত, ব্যবসা বা পর্যটন কাজের জন্য কিনা, আমার সাথে হতে পারে, এবং খুব বেশি ওজন হবে না, অবসর সময় মজা হতে পারে,। আপনি যদি বাইরে কাজ করতে চান, তাহলে ল্যাপটপগুলি তাদের সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

ল্যাপটপের অসুবিধাঃ-

ডেস্কটপ কম্পিউটারের তুলনায় ল্যাপটপের কিছু অসুবিধা রয়েছে।ডেস্কটপ এবং ল্যাপটপের কার্যক্ষমতা প্রায় কাছাকাছি কিন্তু ডেস্কটপের দাম কমলেও ল্যাপটপের দাম সেভাবে কমেনি।ডেস্কটপের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটারের তুলনায় ল্যাপটপের ক্ষমতা তত বাড়েনি (বিশেষত “ওয়ার্কস্টেশন ক্লাস” যন্ত্র যেগুলোর সাথে দুই প্রসেসরের সকেট আছে) এবং নতুন আসা উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বৈশিষ্ট্যগুলো ডেস্কটপে প্রচলনের পরই ল্যাপটপে আসে।যদিও ল্যাপটপের প্রসেসর উচ্চ মাত্রার ডাটাবেজ, গণিত, ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্থিক সফটওয়্যার, ভার্চুয়াল জগতের কাজের জন্য ডেস্কটপের তুলনায় পিছিয়ে আছে।

ডেস্কটপের তুলনায় ল্যাপটপের সম্প্রসারণ ক্ষমতা খুব কম। সাধারণ হার্ড ড্রাইভ এবং মেমোরি সম্প্রসারণ তুলনামূলকভাবে সহজ। অপটিক্যাল ড্রাইভ এবং অভ্যন্তরীন প্রসারন কার্ড লাগানো যায় যদি তা হয় সাধারণ মানদন্ডের। কিন্তু অন্য সকল উপাদানগুলো যেমন মাদারবোর্ড, সিপিইউ এবং গ্রাফিক্স সহজে পরিবর্তন করা যায় না। সাউন্ড কার্ড, নেটওয়ার্ক এডাপ্টার, হার্ড ড্রাইভ, অপটিক্যাল ড্রাইভ সহ আরো অগনিত পেরিফেরাল যন্ত্রাংশ রয়েছে কিন্তু এই সব সম্প্রসারণ ল্যাপটপের বহনযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে, কারণ এগুলো লাগাতে গেলে ক্যাবল বক্স প্রভৃতি বসাতে বা সংযোগ করতে হয়।

ল্যাপটপের ছোট, সমান্তরাল কিবোর্ড এবং ট্র্যাকপ্যাডের কারণে দীর্ঘক্ষন ধরে ল্যাপটপ ব্যবহার করলে পৌনপুনিক মাংসপেশির খিল ধরা সমস্যা দেখা দিতে পারে ।বহন যোগ্যতার কারণেই ল্যাপটপকে একস্থান থেকে অন্যস্থানে নিয়ে যাওয়া যায়। আর এতে ডেস্কটপের তুলনায় ক্ষতির সম্ভবনাও বেশি। যন্ত্রাংশগুলো যেমন প্রদর্শনীর কেন্দ্রবিন্দু, আংটা, পাওয়ার জ্যাক বা পাওয়ারের তারগুলো ধীরে ধীরে ব্যবহারের ফলে ক্ষয় বা নষ্ট হতে থাকে।

কম্পিউটার এবং ল্যাপটপের সুবিধা ও অসুবিধা পয়েন্টগুলি আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.