ব্রণ কি?ব্রণের কারণ?ব্রণ থেকে রক্ষা পেতে?

হাই বন্ধুরা, আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। বন্ধুরা আজকে আমি আপনাদের সামনে কিছু কথা বলব- সেটি হচ্ছে বলুন আমাদের দেশে বয়সন্ধিকালে ছেলে এবং মেয়ে উভয় 11 থেকে 19 বছরের মধ্যে হয়ে থাকে।

কিন্তু বয়সন্ধি সময় ছেলে এবং মেয়ের হরমোন সমস্যার কারণে বরুণ হয়ে থাকে। তো বন্ধুরা ব্রণ কেন হয়, ব্রণ কি বরণের, ব্রণ থেকে প্রতিরোধের উপায়,পদ্ধতি সব বিষয়ে আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। তো বন্ধুরা আর কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাকঃ-


ব্রণ কি
অ্যাকনি ভালগারিস (ইংরেজি: Acne vulgaris বা Acne) বা ব্রণ হলো মানব ত্বকের একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগবিশেষ যা বিশেষত লালচে ত্বক, প্যাপ্যুল, নডিউল, পিম্পল, তৈলাক্ত ত্বক, ক্ষতচিহ্ন বা কাটা দাগ ইত্যাদি দেখে চিহ্নিত করা যায়। ভীতি, দুশ্চিন্তা ও বিষণ্ণতা উদ্রেকের পাশাপাশি, এটির প্রধান পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হচ্ছে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া।অতিরিক্ত পর্যায়ে মানসিক অবসাদ এবং আত্মহত্যার মত অবস্থার উদ্ভব হতে পারে।

একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ব্রণের রোগীদের আত্মহত্যার পরিমাণ ৭.১%।
বয়ঃসন্ধিকালে লিঙ্গ নির্বিশেষে টেস্টোস্টেরন এর মত অ্যান্ড্রোজেন বৃদ্ধির ফলে ব্রণ হতে পারে। ত্বকের উপর তৈলাক্ত গ্রন্থির মাত্রার উপর ব্রণ হওয়া নির্ভর করে।

এমন সব স্থান হল-মুখ, বুকের উপর অংশ ও পিঠ।
ময়লা কিংবা তৈলাক্ত প্রসাধনী ব্যবহারের কারণে ত্বকের তেল গ্রন্থি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন ত্বকের ভেতরের দিকে তেল জমে তৈরি হয় ব্রণ। এটা ছাড়াও ব্রণ হওয়ার পেছনে বয়স ও বংশগত কারণও থাকে।

ব্রণের কারণ
জিনগত: বাবা অথবা মা যে কারও কৈশরে ব্রণের সমস্যা থাকলে সন্তানেরও ব্রণ দেখা দিতে পারে।
হরমোন জনিত সমস্যা: বয়ঃসন্ধি পর্যায়ে শরীরে আন্ড্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে শরীরে সিবামের মাত্রা বাড়ে এবং মুখ, পিঠ, বুক ইত্যাদিতে ব্রণ দেখা দেয়।


জীবনযাত্রার পরিবর্তন: ধূমপান, অ্যালকোহল গ্রহণ এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অপর্যাপ্ত ঘুম ইত্যাদি ব্রণ সৃষ্টির অন্যতম কারণ।
মানসিক চাপ: ব্রণ হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে মানসিক চাপ।অনেকসময় ব্রণ অনাক্রম্যতা (asymptomatic) প্রদর্শন করে।ত্বকে উপস্থিত লোম রন্ধ্র (hair follicle) এবং সিবেসিয়াস গ্রন্থির (sebaceous gland) সংখ্যা অ্যান্ড্রোজেন সংবেদনশীলতার হার নির্ধারণ করে।

প্রসাধনী: তৈলাক্ত প্রসাধনীর ব্যবহারে ত্বকে ব্রণ হতে পারে।
ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর বয়স্ক নারীদের মধ্যেও অনেক সময় ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়। তবে এই সমস্যা একজন ভালো বিশেষজ্ঞের পরামর্শের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। অনেক সময় প্রসাধনীর পরিবর্তন ও তা মানানসই না হওয়ার কারণে ব্রণ দেখা দেয়। তাছাড়া হরমোন জনিত বিষয়ও ব্রণের জন্য দায়ী। তাই ব্রণ চিকিৎসায় এসকল বিস্তারিত তথ্য জানা প্রয়োজন।


ব্রণ থেকে রক্ষা পেতে

  • খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন ব্রণ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। ব্রণ কমাতে চাইলে চিনি খাওয়ার পরিমাণ কমাতে হবে। পাতাবহুল সবুজ শাক-সবজি খেতে হবে এবং কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের মাত্রা কমাতে হবে।
  • পানি পানের পরিমাণ বাড়াতে হবে। দৈনিক তিন লিটার পানি পান শরীরে সারা বছর নানা রকম অসুখ থেকে রক্ষা করে।
  • তৈলাক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিটা পণ্যে ‘নন-কমেডোজেনিক’ লেখা আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে। এটা ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে।
  • ব্রণ খোটানো যাবে না। সর্বোপরি চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শ মেনে চলুন। এতে ব্রণ দ্রুত সেরে উঠবে এবং ত্বক ভালো থাকবে।

এছাড়াও আপনি ব্রণ থেকে রক্ষা পেতে পারেন। ব্যাসন দিয়ে ভালোভাবে আলু কেটে এবং রস করে আপনাদের মুখে সুন্দর করে লাগান। তাহলে ব্রণ থেকে রক্ষা পেতে পাবেন।


উপকরণ:
চন্দন গুঁড়ো
কাঁচা হলুদ বাটা
পদ্ধতি:
দুটি উপকরণ ভালো ভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর ওটা যেখানে যেখানে ব্রণ আছে সেখানে লাগিয়ে রাখুন। কিছুক্ষণ পর ঠান্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একদিন করুন। ব্রণ আর ব্রণর দাগ, দুইই দূর হয়ে যাবে।

চিকিৎসা
সাধারণত, ক্রিম বা মুখে খাওয়ার ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। স্যালিসাইলিক ও গ্লাইকোলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ ফেইসওয়াশ লোমকূপ উন্মুক্ত করতে সহায়তা করে। জেল বা ক্রিমে থাকা বেঞ্জয়েল পারক্সাইড ও রেটিনল মুখের ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। ব্রণের সমস্যা বেশি হলে মুখের অ্যান্টিবায়োটিক ও রেটিনল গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।ব্রণের অনেক ধরনের চিকিৎসা আছে। স্বল্প পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট যেমন চিনি খাওয়া যেতে পারে।

ঔষধের মধ্যে আছে:

বেনজইল পারঅক্সাইড, অ্যান্টিবায়োটিক, রেটিনয়েড, হরমোন চিকিৎসা, স্যালিসাইলিক এসিড, আলফা হাইড্রক্সি এসিড, নিকোটিনামাইড, কেরাটোলাইটিক সাবান ইত্যাদি।
তো বন্ধুরা, আশা করি আমার এই পোস্টটি, আপনাদের অনেক কাজে লেগেছে। এবং অনেক ভালো লেগেছে। তো আমার এই পোস্টটিতে আপনাকে অনেক ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। এবং আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকলে আমাদেরকে কমেন্ট করে বলবেন, আমরা ইনশাআল্লাহ চেষ্টা করবো আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে। তো বন্ধুরা আজকে এই পর্যন্ত ।আবার আপনাদের সামনে দেখা হবে।

সকলে ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, নিরাপদে থাকবেন।
ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.