সন্তান জন্মের আগে সঠিক প্রস্তুতি-২০২১

সন্তান জন্মের আগে সঠিক প্রস্তুতি-২০২১

আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় পৃথিবীতে আপনার প্রিয় জিনিস কি? আমি বিশ্বাস করি যে আপনি কোন দেরি না করে উত্তর দিবেন আপনার প্রিয় সন্তান।

আমরা সকলেই চাই আমাদের সন্তানরা সুস্থ ও শক্তিশালী জন্মগ্রহণ করুক।

কিন্তু সন্তানের জন্মের আগে অনুপযুক্ত প্রস্তুতি সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করা কঠিন করে তুলতে পারে।
যেহেতু মা তার গর্ভে সন্তানকে বহন করেন, তাই একজন সুস্থ সবল মা একটি সুস্থ সন্তানের জন্ম দেওয়ার অন্যতম শর্ত। তাই, যখনই একজন মা সন্তান নেওয়ার কথা ভাবেন, তার অন্তত ছয় মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। এ সময় থেকে তাকে পুষ্টিকর ও সুষম খাবারের দিকে নজর দিতে হবে। মনে রাখতে হবে মা অপুষ্টিতে ভুগলে বাড়ন্ত ভ্রূণও প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হবে, যা তার মানসিক ও শারীরিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করবে।

গর্ভধারণ থেকে প্রসব পর্যন্ত সময়কে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

* গঠন পর্ব (১-১২ সপ্তাহ)
* বৃদ্ধি পর্ব (১৩-২৮ সপ্তাহ)
* পরিপক্কতা (২৯-৪০সপ্তাহ)

এই তিনটি পর্বের মধ্যে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন ১ম ও ২য় পর্বকে। গঠন পর্যায়ে গর্ভপাতের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাই এই সময়ে মায়েদের খুব সাবধান হওয়া উচিত।

এই তিনটি ধাপ অনুসরণ করলে আপনার অনাগত সন্তানের সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করা যায়।

পুষ্টিকর খাবার খান। যাতে খাদ্য সুষম থাকে যেমন চিনি, আমিষ, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ ইত্যাদি বিদ্যমান থাকে। খাবারের পরিমাণ তিন থেকে পাঁচ গুণ বাড়ান।

আপনি যদি খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পান তবে আপনি কিছু বিকল্প ওষুধ যেমন আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, ফলিক অ্যাসিড ইত্যাদি খেতে পারেন। এর মধ্যে ফলিক অ্যাসিড সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এটি আপনার বিকাশে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। শিশুর মস্তিষ্ক।

যেকোনো ওষুধ খাওয়ার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে (যেমন: ব্যথা, বমির ওষুধ) এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না। কারণ গবেষণায় দেখা গেছে সব ওষুধই শিশুর অক্ষমতায় ভূমিকা রাখে।

পরিমিত বিশ্রাম নিন। তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন।

দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকুন। মনে রাখবেন মা খুশি থাকলে সন্তানের বিকাশ ভালো হয়।

অতি প্রয়োজন না হলে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করবেন না, কারণ এর ক্ষতিকর রশ্মি শিশুর শরীরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

দীর্ঘ দূরত্ব ভ্রমণ এড়িয়ে চলুন, মনে রাখবেন প্রথম তিন মাস ভ্রমণ গর্ভপাতের সবচেয়ে বড় কারণ।

আপনি প্রতিদিন একই খাবার না খেয়ে পার্থক্য করতে পারেন, তবে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে খাবারের পুষ্টিমান অটুট রয়েছে।

কিছু খাবার যা গর্ভপাতের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে (যেমন কাঁচা পেঁপে) ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে এড়িয়ে চলা উচিত। পরিষ্কার থাকুন এবং আরামদায়ক পোশাক পরুন।
গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায়ে যেকোনো জটিলতা মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত থাকুন।

সর্বোপরি পরিবারের সকলের সহযোগিতায় সঠিক নিয়ম মেনে আপনার সুস্থ সবল সন্তান পৃথিবীর আলো দেখুক এটাই সবার কামনা। তাই স্বামী-স্ত্রীসহ পরিবারের সকলেরই দায়িত্ব আপনার স্বপ্ন পূরণে প্রস্তুতিতে যেন কোনো কমতি না থাকে তা নিশ্চিত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.