সিলেট জেলায় কি কি আছে । জাফলং এর দর্শণীয় স্থান গুলো কি কি?

জাফলং কথায় অবস্থিতঃ-
সিলেট জেলার গোয়াইন ঘাট উপজেলায় অবস্থিত। ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা জাফলং।


চলুন শুরু করা যাকঃ-
জাফলং বাংলাদেশের জনপ্রিয় একটি দর্শনীয় স্থান। আঠার এর উপর দিয়ে বয়ে চলা পিয়াইন নদীর। স্বচ্ছ পানির ধারা ঝুলন্ত ব্রিজ, পাহাড় ও চা বাগান নিয়ে জাফলং। জাফলং কি দেখবেন, যাওয়ার উপায়, কোথায় থাকবেন, কোথায় খাবেন, খরচ মোটর প্লেন সহ একটি পরিপূর্ণ ভ্রমণ নির্দেশনা আশাকরি এই পোস্টটি সম্পূর্ণ দেখলে জাফলং সম্পর্কে সবকিছুই আপনার জানা হয়ে যাবে।
স্বাস্থ্যবিধিঃ-
বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় যেখানে বেড়াতে যান না কেন স্বাস্থ্যবিধি গুলোর নিয়ম মেনে অনুসরণ করার অনুরোধ রইলো


জাফলং এর দর্শণীয় স্থান গুলো কি কিঃ-
জাফলং এক অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। বর্ষাকাল জাফলং ভ্রমণের উপযুক্ত সময় হলেও, শীতকালের জাফলং আকর্ষণীয় নয়। পিয়াইন নদীতে পাথরের সন্ধানে শত শত নৌকার আনাগোনা সবকিছুই মুগ্ধ করার মতো। জাফলং জিরো পয়েন্ট এর কাছেই আছে মায়াবী ঝর্ণা। খাসিয়াপল্লী, খাশিয়া রাজবাড়ী ও সমতলের চা বাগান। এর সবকিছুই একদিনে ঘুরে দেখা যায় খুব সহজেই। জাফলং যাওয়ার পথের পাশেই আছে শাহাপরান রহমতউল্লাহ এর মাজার।


জাফলং বাজে যেতে চাইলেঃ
জাফলং যেতে হলে প্রথমে সিলেট আসতে হবে। ঢাকা থেকে সিলেটের দূরত্ব প্রায় ২৪০ কিলোমিটার। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পৌঁছাতে সময় লাগে ছয় থেকে আট ঘণ্টার বেশি। ঢাকার ফকিরাপুল, গাবতলী, সায়েদাবাদ, ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সিলেটগামী যারা বাজে যাবে তারা এসব বাস এ যেতে পারেন যেমনঃ গ্রীনলাইন, শ্যামলি,এনা, লন্ডন এক্সপ্রেস,রোমার, সহ বিভিন্ন পরিবহনের বাস ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচল করে এসি বাসের ভাড়া ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে, এবং নন এসি বাসের ভাড়া ৪৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে।


জাফলং ট্রেনে যেতে চাইলেঃ
ঢাকা থেকে ট্রেনে যেতে চাইলে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলস্টেশন হতে যে সব ট্রেনে যেতে পারেন যেমনঃ উপবন জয়ন্তিকা, অথবা কালনী এক্সপ্রেস ট্রেন কে বেছে নিতে পারেন। শ্রেণীভেদে ট্রেনের টিকিটের মূল্য 200 টাকা থেকে 750 টাকা পর্যন্ত ।ট্রেনের সিলেট যেতে সময় লাগে প্রায় 7 থেকে 8 ঘণ্টা।


নিচে আরো বিস্তারিতঃ-

ঢাকা থেকে সিলেট জাফলং বিমানে যেতে চাইলেঃ
ঢাকা থেকে সবচেয়ে দ্রুত সময়ে সিলেট যেতে আকাশ পথকে বেছে নিতে পারেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং ইউএস-বাংলা বিমানের সিলেট যেতে পারেন। টিকেট মূল্য ২৭০০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে।


সিলেট থেকে জাফলং এর দুরত্বঃ-
সিলেট থেকে জাফলং এর দুরত্ব 60 কিলোমিটার। সিলেট থেকে সরাসরি জাফলং যেতে সময় লাগবে এক থেকে দেড় ঘন্টা। বাস, সিএনজি, লেগুনা, মাইক্রোবাস, জাফলং বাস ছাড়ে কদমতলী থেকে।


সিলেট থেকে জাফলং এর ভাড়া কতঃ-
লোকাল বাস ভাড়া জনপ্রতি 70 টাকা। বিরতিহীন বাস ভাড়া জনপ্রতি 100 টাকা। যেতে চাইলে সিএনজি লেগুনা মাইক্রোবাস পাবেন,বন্দরবাজার শিশুপার্কের সামনে থেকে। জাফলং যাওয়ার সারাদিনের জন্য সিএনজি ভাড়া লাগবে 1200 থেকে 1500 টাকা। ভাড়া লাগবে দুই হাজার টাকা থেকে 2 হাজার পাঁচশত টাকা এবং মাইক্রোবাস ভাড়া লাগবে তিন হাজার টাকা থেকে 5000 টাকা পর্যন্ত


সিলেটে রাতে থাকবেন কথায় বিস্তারিতঃ-
রাতে থাকার প্রয়োজন হলে সিলেট শহরে ফিরে আসায় ভালো হবে। সিলেট থেকে অন্যান্য সকল ভ্রমণ স্থানে যাওয়া ও বেশ সুবিধাজনক। সিলেটের বেশিরভাগ হোটেলগুলো শাহজালাল মাজারের আশপাশে অবস্থিত তালতলা বাজার কদমতলী পর্যন্ত বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। ভালো সার্ভিসের হোটেল গুলোর মধ্যে আছে যেমনঃ হোটেল মেট্রো ইন্টারন্যাশনাল, ব্রিটানিয়া হোটেল, নির্ভানা, ইন,রোজভিউ, নিরভানা ইন, স্টার প্যাসিফিক ইত্যাদি এসব হোটেলে থাকতে খরচ হবে 2000 টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। লাক্সারি হোটেল ও রিসোর্ট এর মধ্যে আছে নাজিমগড় রিসোর্ট হোটেল নূরজাহান গ্র্যান্ড হোটেল এসব হোটেলে প্রতিরোধের জন্য খরচ হবে 8 হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত।


সিলেটে খাবেন কি সব বিস্তারিতঃ-
জিন্দা বাজার এলাকায় অবস্থিত পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট সুলভ মূল্যে পছন্দমত দেশি খাবার খেতে পারবেন। এর স্টুডেন্ট গুলো অনেক রকম ভর্তা,খিচুড়ি এবং মাংসের জন্য সবার কাছে সমাদৃত। সকালের নাস্তা করতে পারবেন ৫০ থেকে ১০০ টাকায় আর দুপুর বা রাতের খাবার খেতে ১৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হবে। সিলেট থেকে শুধু যাওয়া আসা এবং জাফলং ঘুরে দেখতে প্রায় ছয় ঘন্টার মত সময় লাগবে ।তাই জাফলং সহ বাকি জায়গাগুলো ঘুরে দেখতে চাইলে অবশ্যই খুব সকালে রওনা দিতে হবে।


আকর্ষনিয় জাফলং
জায়গাগুলো ঘুরে দেখে ফেরার পথে নিশ্চিন্তে চলে যাবেন। যাতে পারেন জিরো পয়েন্ট থেকে মায়াবী ঝর্ণা। এ যেতে নৌকা দিয়ে নদী পার হয়ে ১০ মিনিট পায়ে হেঁটে যেতে হবে। বর্ষা মৌসুমে নৌকা দিয়ে ঝরণার বেশ কাছে যাওয়া যায়। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত এই ঝর্ণায় অনেক পানি থাকে তবে শীত আসার সাথে সাথেই ঝর্ণার পানি কমতে শুরু করে। তাই এই ঝরনা দেখতে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় বর্ষাকাল ও তার পরবর্তী কয়েক মাস।
নৌকায় নদী পার হতে শীতকালে জনপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা লাগবে। আর বর্ষায় নৌকায় করে ঝর্ণার কাছে যেতে জনপ্রতি ৩০থেকে ৫০ টাকা খরচ হবে।

মায়ার বিপরীত পাশে আছে খাসিয়াপল্লী চা বাগান এবং খাসিয়া রাজবাড়ী খাসিয়াপল্লী ঘাট থেকে জনপ্রতি ৫০ থেকে ৬০টাকা ভাড়ায় সবগুলো জায়গা ঘুরে দেখতে পারবেন। প্রয়োজন হলে হিসাব করে নিতে পারবেন যাত্রা পথের দু’পাশে পান সুপারির বাগান খাসিয়াদের ঘরবাড়ি ।তাদের জীবনযাত্রা এবং রাজবাড়ী দেখা মিলবে সবশেষে সংগ্রামপুঞ্জি চা বাগান ।চা বাগান দৃষ্টিনন্দন চা বাগানে কিছু সময় কাটিয়ে ফিরে আসুন ।আগের পথে জাফলং জিরো পয়েন্ট এর কাছে মালামাল রাখার এবং গোসল করে ড্রেস চেঞ্জ করার ব্যবস্থা আছে।
নিতে চাইলে সুরমা গেইট এলাকায় অবস্থিত রূপসীকে পারেন আর সিলেট শহরে এসে যে কোন সময় হয়।


সব কিছু দেখার পর বিদায় জানাই জাফলংকেঃ
পানিতে নামার সময় বিশেষ করে বর্ষাকালে অতি সতর্ক থাকুন, পাথর উত্তোলনের ফলে অনেক বেশ গভীর ছিল সেই সাথে অনেক শ্রদ্ধ। কে একটু অসতর্ক হলেই অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটে যেতে পারে। অনেকেই মায়া বিছানার উপরে ওঠার চেষ্টা করেন ।এ দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন আর এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকুন প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এখানে বেড়াতে যান না কেন স্বাস্থ্যবিধি গুলো নিয়ম মেনে অনুসরণ করার অনুরোধ রইলো।


আমার কথাঃ-
জাফলং ভ্রমণ নিয়ে যদি আরো কোন কিছু জানার থাকে- তাহলে কমেন্ট করে আপনার প্রশ্ন আমাদেরকে জানাতে পারেন। যেহেতু সময়ের সাথে সাথে অনেক তথ্যই পরিবর্তন হয় তাই সর্বশেষ আপডেট তথ্য পেতে এই পোষ্টটি কমেন্ট করে আমাদেরকে জানাতে পারেন। এখন বিদায় সামনে আবারও দেখা হবে। নতুন কোন পোষ্ট নিয়ে। সেই পর্যন্ত ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন
ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.