৩ নভেম্বর, বাঙালি জাতির জেলহত্যা দিবস। কত তারিখে জেলহত্যা দিবস?

৩ নভেম্বর, বাঙালি জাতির জেলহত্যা দিবস। কত তারিখে জেলহত্যা দিবস?

৩ নভেম্বর, বাঙালি জাতির ইতিহাসে আরেকটি কলঙ্কিত দিন, রক্তাক্ত জেলহত্যার দিন। 3শে নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশে সেই কয়েকটি দিনের মধ্যে একটি যা চিরকাল কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশকে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে বাধাগ্রস্ত কয়েকটি ঘটনার মধ্যে একটি।

বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বহীন করতে ৪৭ বছর আগে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর মধ্যরাতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম পরিচালক, জাতির জনক চার সন্তান। বাংলাদেশের প্রথম অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে এমন জঘন্য, নৃশংস ও বর্বর হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

এর আগে একই বছরের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির জনক ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তার এই চার ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে গ্রেফতার করে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে পাঠানো হয়। পরবর্তী অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অভ্যুত্থানের রক্তাক্ত অধ্যায়ে মানবতার শত্রু ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী একই পরাজিত শক্তির সহযোগী কয়েকজন বিপথগামী সেনা সদস্য কারাগারে ঢুকে চার নেতাকে হত্যা করে। এরপর থেকে প্রতি বছরের মতো এবারও দিনটি জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের শত্রুরা সেদিন দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান এই চার জাতীয় নেতার ওপর গুলি চালিয়ে ক্ষান্ত হয়নি। প্রগতি ও সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রা থেকে বাঙালি পিছিয়ে পড়েছিল। ইতিহাসের এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞে শুধু বাংলাদেশের মানুষ নয়, গোটা বিশ্ব স্তম্ভিত। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ড ছিল একই ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতা। বিশ্বাসঘাতক খুনিদের পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য আজ জাতির কাছে স্পষ্ট। আজ মিথ্যা কুয়াশার ধোঁয়া ভেঙ্গে নতুন সূর্যের আলোর মতো সত্য প্রকাশ পেয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, ঘাতক ও তাদের সহযোগীরা পাকিস্তান ভাঙার প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ ও সীমাহীন আত্মত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের চক্রে নিমজ্জিত করতে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সদ্য স্বাধীন দেশটিকে পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রের পথ থেকে বিচ্যুত করা এবং

বাংলাদেশের ভেতর থেকে একটি মিনি-পাকিস্তান তৈরি করা। এখানেই স্বাধীনতার শত্রুদের ষড়যন্ত্রের শেষ নেই। ‘৭৫ সাল থেকে বছরের পর বছর বঙ্গবন্ধুর নাম ও টার্গেট মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও জেলহত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার প্রমাণ বেরিয়ে এসেছে আত্মস্বীকৃত ঘাতকদের মুখ থেকে।

জেলহত্যার পর একই সময়ে লালবাগ থানায় মামলা হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর হত্যার তদন্ত ও বিচার বন্ধ ছিল। আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর জেল হত্যা মামলার প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত করে। আট বছরের বেশি সময় ধরে বিচার চলার পর বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে

২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। ২০ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১৫ জন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং অন্য পাঁচজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে তিন পলাতক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- আলী শাহ, রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ওরফে হিরন খান ও এলডি দফাদার মোঃ আবুল হাসেম মৃধা। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল (অব.) সৈয়দ শাহরিয়ার রশীদ, মেজর (অব.) বজলুল হুদা,

লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবদুর রশিদ (বরখাস্ত), লেফটেন্যান্ট কর্নেল শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব.) এমএইচএমবি নুর চৌধুরী, লে. কর্নেল (অব.) একেএম মহিউদ্দিন আহমেদ, লে. কর্নেল (অব.) এএম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব.) আহমেদ শরিফুল হোসেন, ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল মাজেদ, ক্যাপ্টেন (অব.) মো. কিসমত হোসেন ও ক্যাপ্টেন (অব.) নাজমুল হোসেন আনসার। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- বিএনপি নেতা কে এম ওবায়দুর রহমান, জাতীয় পার্টি নেতা শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, নুরুর ইসলাম মঞ্জুর ও মেজর (অব.) খায়রুজ্জামান।

আলী শাহ ও এলডি দফাদার মোঃ আবুল হাসেম মৃধাসহ চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কর্নেল (বরখাস্ত) সৈয়দ ফারুক রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) শাহরিয়ার রশিদ খান, মেজর (অব.) বজলুল হুদা এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে চার আসামির চারটি আপিল ও ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি করে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বেঞ্চ এ রায় দেন।
তবে কারাগারে হত্যাকাণ্ডের অনেক পরে এ রায় আসলেও একই সঙ্গে জাতীয় নেতার পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন মহল এ রায়কে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘হাস্যকর’ বলে অভিহিত করেছে। সা এ

ইয়ার রশীদ খান, মেজর (অব) বজলুল হুদা ও লে. কর্নেল (অব) এ কে এম মহিউডক আহমেদ- এই চারজন কার্যকরী গণসংযোগ ক্ষমতায়ন-প্রাপ্ত প্রমাণিত হয় ২০১০ এ ২৭ ২৭ জরিমানা ফাঁসির রায়। খোদ হাইকোর্টের রায়ে পলাতক অপর আটটি জরিপদণ্ড পাওয়া আসামির সম্পর্কে কোন আলোচনা না করায় তাদের দণ্ড বহাল আছে বলে ব্যাখ্যা দেন।

২০০৮-এর ২৯ ডিসেম্বর তারিখে ভোটের তারিখে ক্ষমতাসীন মহাজোট ক্ষমতাসীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পুনর্বিবেচনার তারিখ আসে। ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি আপিল বিভাগ সরকার আপিল আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। আদেশে নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড, হাইকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া দাদার মারফত আলী শাহ ওডি এল (দফাদার) আবুল মৃধাকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

সমবেদনা তাদের আত্মসমর্পণ করতে- আইন প্রয়োগকে নির্দেশ করতে হবে। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল আপীল ভোটের রায়ে ২০০৮ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে ২০০৪ সালের বিচারের রায় বহু রাখা হয়। ভিন্ন পলাতক তিন আসামি রিসালদার মোসলেম দফে হিরন খান, দফাদার মারফত আলী শাহ ও এলডিফাদার মোঃ আবুল হাসেম মৃধাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য ১২ জন বদজজীবনীদণ্ড হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.