কোরবানী কয় ভাগে দেওয়া যায় | ৭ ভাগে কুরবানী দেওয়া যায় কি।কুরবানী কবুল না হওয়ার কারণ?

কোরবানী কয় ভাগে দেওয়া যায়হাই বন্ধুরা আসসালামুআলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। আমি আপনাদের সামনে পবিত্র ঈদ-উল আযহা বা কোরবানির ঈদ সম্পর্কে আমি আপনাদের সামনে কিছু উপস্থাপন করব।তো বন্ধুরা আপনাদের মনে একটা প্রশ্ন জাগতে পারে যে, কুরবানী ঈদে সাত ভাগে কুরবানী দেওয়া যাবে কিনা।

সাত ভাগে কুরবানী দিলে কি কি নিয়ে করতে হবে। তো আপনারা সকলেই এই বিষয় নিয়ে টেনশনে পড়ে যান যে সাত ভাগে কুরবানী দেওয়া যাবে কি না। তো বন্ধুরা ।আর টেনশন করতে হবে না। এ জন্য আমি আপনাদের সামনে চলে আচ্ছি।তো বন্ধুরা সব বিষয়ে আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরব ইনশাল্লাহ ।

গরু কুরবানী করার দোয়াঃ-

বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা মিনকা ও লাকা। উচ্চারণ : বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া লাকা। উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা তাকাব্বালহু মিন্নি কামা তাকাব্বালতা মিন হাবিবিকা মুহাম্মাদিও ওয়া খালিলিকা ইবরাহিম।

আল্লাহ রব্বুল আলামীন আমাদেরকে যে কোরআনের বিধান গুলো দিয়েছে তার মধ্য থেকে আরেকটা শরীয়তের বিধান হল কোরবানির পশুর বিষয়ে। বন্ধুগন আমার ছাগল ,ভেড়া একটা পশু একজনের নামে কোরবানি করা যাবে। পক্ষান্তরে গরু,মহিষ,উট এগুলো বড় প্রাণী এগুলোতে একাধিক আমরা অংশীদারিত্ব গ্রহণ করতে পারি। আল্লাহ রব্বুল আলামীন কোরবানির বিধান করে দিয়েছেন ৭ ভাগে অংশগ্রহণ করে একটা পশু কোরবানী দিতে পারবেন ।

৭ নামে সেগুলো হলো উট ,উট, গরু, মহিষ, যেগুলো আছে এগুলোতে অংশীদারি হিসাবে কুরবানি দিতে পারবেন। ছোট প্রাণী যেগুলো আছে সেগুলো শুধু একজনই একটা করে কোরবানি দিতে পারবেন। আবার এ ক্ষেত্রে আমাদেরকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে পশু গুলো যেন হয় নিখুঁত হয়। অনেকেই আমরা শিংভাঙ্গা দেখা ছাড়াই আমরা পশু কোরবানী দিতে পারি এগুলো হবে না। শিং ভেঙ্গে গেলে, কাটা গেলে ,চোখ অন্ধ হয়ে গেলে, চামড়া উঠে গেলে, পশম উঠে গেলে, এগুলো কুরবানী হবে না । আল্লাহ কবুল করবেন না ।

এমন আমাদের ত্যাগ স্বীকারের করতে হবে। অত্যন্ত মোহাব্বতের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আল্লাহকে কোরবানি উৎসর্গ করে দিতে হবে। আল্লাহকে রাজি-খুশি করার মন-মানসিকতা দিতে হবে। বন্ধুগন আমরা এই ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ গোস্ত খাওয়ার মালতি বা গোস্ত খাওয়ার বিষয় আমরা কুরবানী দিয়ে থাকি বা গোস্ত খাওয়ার মানত করলে সেই কুরবানি আল্লাহ পাক কবুল করবেন না। এ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে 7 জনের মধ্যে একজন ব্যক্তি যদি অসন্তুষ্ট হয়ে যায়।

পশু ক্রয় করার পরে যেটাতে গোস্ত কম হবে এ সব কথা বললে তাহলে কারো কুরবানী হবে না। সকালের কোরবানি নষ্ট হয়ে যাবে। এজন্য সবাইকে এক মন হয়ে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের জন্য আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোরবানি করতে হবে। আমাদেরকে কোরবানির পশু থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত আমাদের গোশত বন্টনে রাখতে হবে। কুরবানীর উপযুক্ত সময় গুলো আমরা আর একবার জেনে নেই। সেটা হল কোরবানির দিন, এগুলো হলো ১০ জিলহজ, ১১ জিলহজ এবং ১২ জিলহজ এই তিন দিন আমাদের কোরবানীর যেকোনো দিন আমরা কোরবানি দিতে পারব।

তবে শর্ত হলো উত্তম সময় হলো ১০ জিলহজ আমাদের কুরবানী করতে হবে। বন্ধুগণ আমার আমরা চেষ্টা করব যাতে করি আমরা উত্তম সময় কোরবানি দিতে পারি। কিন্তু দেখা যায় অনেক সময় যদি কোন ব্যক্তির হাতে টাকা নাই, সে ১০ জিলহজের সামর্থ্যবান নাই। সে কোরবানি দিতে পারল না সে ১১ জিলহজ কোরবানি দিতে পারল না কিন্তু 12 ই জিলহজ হঠাৎ করে তার হাতে যদি টাকা আসে সে যদি সম্পদের মালিক হয়ে যায় তাহলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হয়ে যাবে। তাকে অবশ্যই সেদিন কোরবানি দিতে হবে ।এটা অত্যন্ত জরুরী বিষয়। বন্ধুগন আপনার এটা জানা এবং মানার পদ্ধতি।আমাদেরকে কবুল করুক এবং আমাদের জীবনের গুনাহ গুলো মাফ করুক অমিন।

কোরবানির পশু যাবতীয় দোষ-ত্রুটি মুক্ত হতে হবে। যেমন হাদিসে এসেছে : সাহাবী বারা ইবনে আযেব (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন তারপর বললেন, চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কোরবানি জায়েয হবে না। অন্ধ. যার অন্ধত্ব স্পষ্ট, রোগাক্রান্ত; যার রোগ স্পষ্ট, পঙ্গু; যার পঙ্গুত্ব স্পষ্ট এবং আহত; যার কোন অঙ্গ ভেঙে গেছে। নাসাঈর বর্ণনায় আহত শব্দের স্থলে পাগল উল্লেখ আছে। (তিরমিজি-১৫৪৬; নাসাঈ-৪৩৭১; আবূদাউদ; হাদিসটি সহিহ)।

অতএব এ চারের কোন এক ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারা কোরবানি সিদ্ধ হয় না। যে পশুটি কোরবানি কারা হবে তার উপর কোরবানিদাতার পূর্ণ মালিকানা সত্ত্ব থাকতে হবে। অর্থাৎ কোরবানিদাতা যেন বৈধভাবে ওই পশুর মালিক হয়। সুতরাং চুরিকৃত, আত্মসাৎকৃত, বন্ধকী পশু, কর্জ করা পশু বা পথে পাওয়া, অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়ে ক্রীত পশু দ্বারা কোরবানি আদায় হবে না। একই ভাবে অবৈধ মূল্য যেমন সুদ, ঘুষ, প্রবঞ্চনা, ধোঁকা প্রভৃতির অর্থ দ্বারা কেনা পশুর কোরবানি জায়েয নয়। যেহেতু

কোরবানি এক ইবাদত যার দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা হয়। আর পাপ করার মাধ্যমে কোন প্রকার নৈকট্য লাভ সম্ভব নয়। বরং তাতে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। রাসূল (সা.) বলেন, আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ব্যতিত কিছু গ্রহণ করেন না। (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১০১৫)।
তো বন্ধুরা আজকে এ পর্যন্তই সকলেই ভাল থাকবেন। সুস্থ থাকবেন এবং আপনার কোন মতামত থাকলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.